ঢাকা, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

মাদরাসায় ১৫ শিক্ষকের ১৩ পরীক্ষার্থী—সবাই ফেল, ৫টি মাদ্রাসায় ১জন করে পাস

স্টাফ রিপোর্টার


প্রকাশ: ১২ অগাস্ট, ২০২৬ ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২১ বার


 মাদরাসায় ১৫ শিক্ষকের ১৩ পরীক্ষার্থী—সবাই ফেল, ৫টি মাদ্রাসায় ১জন করে পাস

সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাঁর সাপাহারে এসএসসি ও সমমানের দাখিল পরীক্ষায় একটি মাদ্রাসা থেকে অংশ নেওয়া ১৩ জন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটিতে ১৫ জন শিক্ষক ও পাঁচজন কর্মচারী কর্মরত থাকার পরও এমন ফলাফল নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় উপজেলার ভাবুক নইমুদ্দিন সরকার দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, তাদের একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।

 

 

মাদ্রাসাটিতে ১৫ জন শিক্ষক ও পাঁচজন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। শিক্ষক-কর্মচারীর এমন উপস্থিতির পরও কোনো পরীক্ষার্থী পাস না করায় প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

 

এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার আতাউল্লাহ বলেন, “করোনা দুর্যোগের কারণে পরিবারগুলো অসচ্ছল হয়ে পড়ে। যার কারণে সচেতনতার অভাবে এই ফলাফল হতে পারে।”

 

 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শামসুল কবীর বলেন, “এ বিষয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। তবে এটা দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের সতর্ক করা হবে।”

 

 

এদিকে, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সাপাহার উপজেলার আরও কয়েকটি মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষার ফলাফল হতাশাজনক হয়েছে। এর মধ্যে মানিকুড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন। দেওপাড়া শিংপাড়া মাদ্রাসা থেকে ১২ জনের মধ্যে একজন, রসুলপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৫ জনের মধ্যে একজন এবং ইসলামপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৮ জনের মধ্যে একজন পরীক্ষার্থী পাস করেছে। এছাড়া মরাডাঙ্গা ময়নাকুড়ি আলিম মাদ্রাসা থেকে ২৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন।

 

 

উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে এবার মোট ৮৩৩ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৮৩ জন। পাসের হার ৩৩.৯৭ শতাংশ। উপজেলায় মাদ্রাসাগুলো থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র দুইজন শিক্ষার্থী।

 

 

একাধিক মাদ্রাসায় পরীক্ষার্থীদের এমন ফলাফল নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়ন, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং পরীক্ষার আগে কার্যকর একাডেমিক প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


   আরও সংবাদ