ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৪ অগাস্ট, ২০২৬ ১২:৪৭ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৭ বার
যশোর: দেশে কাঁচা মরিচের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে ভারত থেকে আমদানি শুরু হয়েছে। দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর যশোরের বেনাপোল দিয়ে সোমবার (৩ আগস্ট) রাত থেকে প্রথম চালান দেশে প্রবেশ করে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে চালানটি বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানো হয়।
সরকারের উদ্দেশ্য বাজারে সরবরাহ বাড়ানো।
তবে আমদানি শুরুর পরই ব্যয় নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি হিসাবে প্রতি কেজি মরিচের আমদানি ব্যয় প্রায় ৭৮ টাকা।
কিন্তু আমদানিকারকদের দাবি, প্রকৃত ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩৫ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে প্রায় ৫৭ টাকার ব্যবধান রয়েছে।
বেনাপোল স্থলবন্দর সূত্র জানায়, সোমবার রাত ৮টার দিকে ভারতের একটি ট্রাকে ৯ হাজার ২০০ কেজি কাঁচা মরিচ বন্দরে পৌঁছায়। প্রয়োজনীয় কাস্টমস ও বন্দর-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে একই রাতে চালানটি ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়।
চালানটির আমদানিকারক শিমু এন্টারপ্রাইজ। খালাস কার্যক্রম পরিচালনা করে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান শিমু শিপিং লাইন্স।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন বলেন, মরিচবাহী ট্রাক পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত কাগজপত্রের কাজ শেষ করা হয়েছে। দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সীমান্তের ওপারে আরও কয়েকটি ট্রাক অপেক্ষায় রয়েছে। সেগুলো মঙ্গলবার বন্দরে প্রবেশ করবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ীকে মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষ করে নাসিক থেকে এসব মরিচ আনা হচ্ছে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আমদানি-সংক্রান্ত নথিতে দেখা গেছে, প্রতি টন কাঁচা মরিচের ঘোষিত মূল্য ২৩ হাজার ৮৭৫ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজির মূল্য প্রায় ২৪ টাকা।
এর সঙ্গে প্রতি কেজিতে প্রায় ৪৫ টাকা শুল্ক দিতে হচ্ছে। ফলে ঘোষিত মূল্য ও শুল্ক মিলিয়ে ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৬৯ টাকা। বন্দর চার্জ, পরিবহন, খালাস, কাস্টমস, শ্রমিক মজুরি ও অন্যান্য ব্যয় যোগ করলে মোট ব্যয় প্রায় ৭৮ টাকায় পৌঁছায়।
তবে আমদানিকারক শাহাজান বলছেন, বাস্তব চিত্র ভিন্ন। তার দাবি, প্রতি কেজি মরিচ আমদানিতে মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১৩৫ টাকা। সামান্য লাভ রেখেই বাজারে বিক্রি করতে হবে।
তিনি বলেন, কাস্টমসের হয়রানি, পণ্য ছাড়ে জটিলতা এবং বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে প্রকৃত খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এতে অনেক আমদানিকারক লোকসানের ঝুঁকিতে পড়ছেন।
সোমবার বেনাপোলের কাঁচাবাজারে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সেই হিসাবে আমদানিকারকের দাবি অনুযায়ী ১৩৫ টাকা ব্যয় হলেও খুচরা বাজারে দাম আরও প্রায় ১৬৫ টাকা বেশি ছিল।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাইকারি থেকে খুচরা পর্যন্ত একাধিক ধাপে দাম বাড়ে। পরিবহন ব্যয়ও যোগ হয়। সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতাও ব্যবধান বাড়ায়। তবে নিয়মিত বাজার তদারকি করলে এই ব্যবধান কমানো সম্ভব।
যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মূল্য স্থিতিশীল করতেই ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুধু আমদানির অনুমতি দিলেই হবে না। দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করতে হবে। শুল্ক ও বন্দর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে হবে।
একই সঙ্গে পাইকারি ও খুচরা বাজারে নজরদারি বাড়াতে হবে। তাহলেই আমদানির সুফল দ্রুত ভোক্তার কাছে পৌঁছাবে।