আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অগাস্ট, ২০২৬ ১১:১৭ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২২ বার
দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি বৈধ খনির বর্জ্য ফেলার স্থান ধসে অন্তত ১৪ জন অবৈধ খনি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন।
ধ্বংসস্তূপের নিচে অজ্ঞাতসংখ্যক মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চলছে।
সোমবার রাতে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি প্ল্যাটিনাম ও অন্যান্য ধাতু উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত বর্জ্য ফেলার স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধভাবে খননকাজ চালানোর সময় বর্জ্যের বিশাল একটি স্তূপ শ্রমিকদের ওপর ধসে পড়ে।
এরপর ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ ঘটনার পর আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন। তাদের উদ্ধারে উদ্ধারকারী দল তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
নিহত ও আহতদের অধিকাংশই প্রতিবেশী দেশ লেসোথো থেকে আসা নথিপত্রহীন অভিবাসী বলে জানিয়েছে পুলিশ। চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ খননকাজ চালানো ও অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
আঞ্চলিক পুলিশ প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর্থার অ্যাডামস দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় সব ধরনের খননকাজ স্থগিত রাখা হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ খনি শ্রমিকেরা স্থানীয় জুলু ভাষায় ‘জামা জামা’ নামে পরিচিত। শব্দটির অর্থ ‘যারা ভাগ্য পরীক্ষা করে’। বহুজাতিক খনি প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার পর বন্ধ বা পরিত্যক্ত খনি এবং বর্জ্যের স্তূপে কাজ করতে নেমে পড়েন বহু বেকার ও নথিপত্রহীন মানুষ।
সুরক্ষাব্যবস্থা না থাকা এসব পরিত্যক্ত খনি ও বর্জ্যের স্তূপে প্রায়ই ধসের ঘটনা ঘটে। এতে প্রাণহানিও ঘটে ব্যাপকভাবে। জীবনের ঝুঁকি জেনেও জীবিকার সন্ধানে এসব স্থানে কাজ করেন অবৈধ খনি শ্রমিকেরা।
এর আগে গত বছরের জানুয়ারিতেও দক্ষিণ আফ্রিকার স্টিলফন্টেইনের একটি পরিত্যক্ত খনির খাদ থেকে ৭৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই ঘটনাও দেশটিতে অবৈধ খনন ও পরিত্যক্ত খনির নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছিল।
সূত্র: রয়টার্স