ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:২১ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৬ বার
পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে ডিজেলের পরিবর্তে বিদ্যুতের সাহায্যে ট্রেন পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর সেকশনের ৫২ কিলোমিটার রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন বা ওভারহেড ক্যাটেনারি ব্যবস্থা চালুর একটি মেগা প্রকল্প অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উত্থাপন করা হচ্ছে।
এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (ইআইবি)।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত ‘নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর সেকশনে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন বাস্তবায়ন’ প্রকল্পের আওতায় ৫২ দশমিক ৩২ কিলোমিটার রেলপথে ট্রেন চলাচলের জন্য ওভারহেড ক্যাটেনারি ব্যবস্থা নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি পাঁচটি করে কোচ নিয়ে মোট ১৬ সেট ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ইএমইউ) বা বৈদ্যুতিক ট্রেন সংগ্রহ করা হবে।
ট্রেনগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জয়দেবপুর প্রান্তে একটি আধুনিক ইএমইউ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কারখানাও গড়ে তোলা হবে। ২০৩১ সালের জুনের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ২৮২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। তবে গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় বিভিন্ন খাতের ব্যয় যৌক্তিক করার পর প্রকল্প ব্যয় ৪৬০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা কমানো হয়। এতে ব্যয় প্রায় ১২ শতাংশ কমে চূড়ান্তভাবে ৩ হাজার ৮২২ কোটি ৫১ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এই অর্থের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হবে ৯৪২ কোটি টাকা। বাকি ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা আসবে এডিবি ও ইআইবির প্রকল্প ঋণ থেকে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশনে ট্রেন চলাচল শুরু হলে প্রচলিত ডিজেল-ইলেকট্রিক ট্রেনের তুলনায় জ্বালানি ব্যয় প্রায় ৪০ শতাংশ কমবে। একই সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
বৈদ্যুতিক ট্রেনের গতিশীলতা বেশি হওয়ায় এই পথে ট্রেনের গড় গতিবেগ ১৮ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তখন ট্রেনগুলো ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার বেগে চলাচল করতে পারবে। এতে যাত্রীদের ভ্রমণের সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
দেশের অন্যতম ব্যস্ত শিল্পাঞ্চল এবং রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু হলে সড়কপথের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণও কমবে। এর ফলে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তুলনায় বৈদ্যুতিক রেলের ব্যবহারে বাংলাদেশ বেশ পিছিয়ে রয়েছে বলে মনে করেন যোগাযোগ অবকাঠামো বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ভারতে প্রায় ৭০ শতাংশ এবং চীনে ৯৫ শতাংশ ট্রেন বিদ্যুতে চালিত হচ্ছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এই রূপান্তর জরুরি, তবে এতে সময় লাগবে। তাই এখনই এর সূচনা করা প্রয়োজন।
তবে প্রকল্পটি সফল করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈদ্যুতিক রেল প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। অতীতে ডেমু ট্রেন চালুর ক্ষেত্রে যথাযথ লোকবল ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে এই প্রকল্পে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনেরও পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটের এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে পর্যায়ক্রমে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটেও বৈদ্যুতিক ট্রেনলাইন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
সার্বিক বিষয়ে পরিকল্পনা সূত্রে জানা গেছে, পুরো রেলব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় এনে রেল খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। রেলের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অচিরেই আরও একগুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।