স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:২২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৪ বার
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। আগামী ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঘোষিত আর্জেন্টিনা দলে রাখা হয়েছে ৩৯ বছর বয়সী এই তারকাকে।
আগস্টে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান মেসি। এর মধ্য দিয়ে শেষ হতে যাচ্ছে তার দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।
এই সময়ে তিনি আর্জেন্টিনাকে জিতিয়েছেন ২০২২ সালের বিশ্বকাপ এবং ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা শিরোপা।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া মেসির বিদায়ী ম্যাচ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়, আমাদের জাতীয় দলের প্রতীক ও অধিনায়ক লিওনেল আন্দ্রেস মেসিকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে ৬ অক্টোবর আর্জেন্টিনায় তিনি তার প্রাপ্য বিদায় নিতে পারেন।
’
বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে বুয়েনস এইরেসের রিভার প্লেটের এস্তাদিও মনুমেন্তালে। প্রায় ৮৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামেই জাতীয় দলের হয়ে মেসির শেষ উপস্থিতির সাক্ষী হবে সমর্থকরা।
তাপিয়া জানিয়েছেন, ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের সব সদস্যকেও এই বিশেষ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তার ভাষায়, এটি হবে একটি ‘অবিস্মরণীয়’ মুহূর্ত।
বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবায় বলিভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের প্রস্তুতি। এরপর ৩ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসে বুরকিনা ফাসোর মুখোমুখি হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
মেসিকে রাখা হয়েছে তৃতীয় ম্যাচের স্কোয়াডে, যেখানে তিনি জাতীয় দলের হয়ে নিজের ২০৮তম এবং শেষ ম্যাচ খেলতে পারেন। আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসির নামের পাশে রয়েছে ১২৫ গোল।
গত মাসে বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর ফুটবল চালিয়ে যাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছিলেন মেসি। আর্জেন্টিনার হয়ে বিদায়ের সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত, যা আমার আত্মার গভীরে আঘাত করেছে এবং এখনো কষ্ট দেয়। তবে আমি বুঝতে পারছি, এটাই সঠিক সময়।’
তবে ক্লাব ফুটবলে এখনো মেসির পথচলা অব্যাহত রয়েছে। মেজর লিগ সকারের ক্লাব ইন্টার মায়ামির সঙ্গে তার চুক্তি রয়েছে ২০২৮ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত।
এদিকে, আর্জেন্টিনার এই প্রীতি ম্যাচগুলো ফিফার নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ফিফার শৃঙ্খলাবিধি ভঙ্গের কারণে ঘরের মাঠে পরবর্তী ম্যাচে ৫০ শতাংশ দর্শক নিয়ে খেলতে হবে আর্জেন্টিনাকে।
জুলাইয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর কয়েকজন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় একটি ব্যানার প্রদর্শন করেছিলেন, যেখানে লেখা ছিল ‘ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার’।
এছাড়া স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনাল হারের পর ঘটে যাওয়া ঘটনার জেরেও কয়েকজন খেলোয়াড়ের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস পেয়েছেন ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা, নাহুয়েল মোলিনা সাত ম্যাচ এবং থিয়াগো আলমাদা এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন।