ঢাকা, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ১৫ অগাস্ট, ২০২৬ ১৬:৩৬ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৯ বার


অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ

ডারউইনে তিন দিন ধরে অস্ট্রেলিয়ার ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছে বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদের আগুনে বোলিংয়ে প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে অস্ট্রেলিয়াকে গুটিয়ে দেওয়ার পর তানজিদ হাসান তামিমের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরিতে ম্যাচের লাগাম হাতে নেয় বাংলাদেশ।

তৃতীয় দিনে মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানে ভর করে লিড বাড়ে ২২৮ রানে। 

 

এরপর বল হাতেও দাপট ধরে রেখে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডারকে ধসিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।

দিনের শেষে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করে এখনও ৬৭ রানে পিছিয়ে স্বাগতিকরা। তিন দিনের এই দাপটের পর তাই ডারউইনে এখন অস্ট্রেলিয়ার নয়, ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।

সবমিলিয়ে ডারউইনে তিন দিনেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ। 

 

রোববার চতুর্থ দিন শুরু হবে ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারিকে নিয়ে।

গ্রিন ৪৩ এবং ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত। তাদের পর অস্ট্রেলিয়ার হাতে ব্যাটিংয়ে আছেন বো ওয়েবস্টার। তবে কেবল বাংলাদেশের দেওয়া লিডটা ছুঁলেই হবে না, ম্যাচ জিততে হলে এরপর বাংলাদেশকে লক্ষ্যও দিতে হবে; স্কোরবোর্ডে কিছু রানও করতে হবে। কাজটা কতটা কঠিন, সেটি বর্তমান স্কোরকার্ডই বলে দিচ্ছে!

 

বাংলাদেশের সামনে এখন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের সুযোগ। তিন দিনের পারফরম্যান্সে সেই সম্ভাবনাই জোরালো হয়েছে। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশ করেছে ৪২৬ রান। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডারে একের পর এক আঘাত হেনেছে বাংলাদেশের বোলাররা। এখন চতুর্থ দিনে শেষ পেরেকটা ঠুকে দেওয়ার দ্রাড়প্রান্তে দাঁড়িয়ে হাসান-তাসকিনরা।

তৃতীয় দিনের শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের জন্য খুব একটা স্বস্তির ছিল না। আগের দিন ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা দলটি দিনের চতুর্থ ওভারেই হারায় হাসান মাহমুদকে। জশ হ্যাজেলউডের বলে ১৪ রান করে ফিরতে হয় তাকে। পরে তাইজুল ইসলামও ১৭ রান করে সেই হ্যাজেলউডের শিকার হন।

তখন বাংলাদেশের লিড ছিল ১৭৪ রানের মতো। সেখান থেকে মেহেদী হাসান মিরাজ হাল ধরেন। তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ ও তাইজুলের সঙ্গে ছোট ছোট জুটি গড়ে দলকে নিয়ে যান বড় লিডের দিকে।

মিরাজ শেষ পর্যন্ত করেন ৬৫ রান। ১৫৪ বলের ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও একটি ছক্কা। তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে নবম উইকেটে ৪৬ রানের জুটিও গড়েন তিনি। মিরাজ ফিরলে বাংলাদেশের ইনিংসও বেশিক্ষণ টেকেনি। হ্যাজেলউডের বলে অ্যালেক্স ক্যারির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত ১৩৮ ওভারে ৪২৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। তাসকিন ৩২ বলে ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে হ্যাজেলউড নেন ৬ উইকেট। নিজের ৩০০তম টেস্ট উইকেটও পূর্ণ করেন এই পেসার। 

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসটি শুধু কেবল লিডই এনে দেয়নি, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি একটি রেকর্ডও। ১৩৮ ওভার ব্যাট করেছে বাংলাদেশ। ২০১৯ সালের সিডনি টেস্টে ভারতের ১৬৭.২ ওভারের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো সফরকারী দল এক ইনিংসে এত বেশি ওভার ব্যাট করেনি।

বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের ভিত অবশ্য তৈরি হয়েছিল আগের দিন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেন তানজিদ হাসান তামিম। ১৯৭ বলে ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ৮৪ রান। মুমিনুল হক থামেন ৪৯ রানে। তাদের ব্যাটেই বড় লিডের ভিত্তি তৈরি হয়।

২২৮ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসের মতো এবারও জেইক ওয়েদারল্ডকে ফিরিয়ে দেন হাসান মাহমুদ। নিজের প্রথম ওভারেই বোল্ড করে শূন্য রানে ফেরান এই ওপেনারকে।

এরপর দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে আবারও আঘাত করেন হাসান। এবার তাঁর শিকার ট্রাভিস হেড। ৩৫ বলে ১৭ রান করে বোল্ড হন এই বাঁহাতি ব্যাটার। দুই ইনিংসেই অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনারকে ফেরানোর বিরল কীর্তিও গড়েন হাসান। বাংলাদেশের হয়ে এর আগে এই কীর্তি ছিল শুধু রবিউল ইসলামের।

হাসানের দুই আঘাতের পর লাবুশেন ও স্মিথ কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন। কিন্তু সেই জুটিও বেশিক্ষণ টেকেনি। মার্নাস লাবুশেনকে ৩১ রানে ফিরিয়ে দেন তাইজুল ইসলাম। এরপর স্টিভেন স্মিথকে ৪৪ রানে থামান মেহেদী হাসান মিরাজ।

৪ উইকেটে ১১৮ রান থেকে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থা আরও কঠিন হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত গ্রিন ও ক্যারি দিনের বাকি সময়টা সামলে নেন। তাদের ব্যাটে দিন শেষ করে অস্ট্রেলিয়া ৪ উইকেটে ১৬১ রানে। এখনও ৬৭ রানে পিছিয়ে তারা।

 

অস্ট্রেলিয়ার সামনে তাই চতুর্থ দিনে প্রথম লক্ষ্য একটাই; বাংলাদেশের লিড ছাড়িয়ে যাওয়া। এরপর বড় রান তুলে বাংলাদেশকে দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নামানো। এর জন্য বড় জুটির বিকল্প নেই।

পরিসংখ্যানও অবশ্য বাংলাদেশের পক্ষেই কথা বলছে। ঘরের মাঠে প্রথম ইনিংসে ১০০ বা তার বেশি রানে পিছিয়ে থেকেও এই শতাব্দীতে অস্ট্রেলিয়া টেস্ট জিতেছে মাত্র একবার। ২০১০ সালে সিডনিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০৬ রানে পিছিয়ে পড়েও মাইকেল হাসির সেঞ্চুরি ও নাথান হরিটজের পাঁচ উইকেটে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছিল তারা। ঘরের মাঠে সেটিই তাদের সবচেয়ে বড় ঘাটতি পেরিয়ে জয়।

তবে দেশের বাইরে আরও বড় লিড পেরিয়ে জয়ের নজিরও আছে অস্ট্রেলিয়ার। ১৯৯২ সালে কলম্বো টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ২৯১ রানে পিছিয়ে পড়েও ১৬ রানে জিতেছিল অ্যালান বোর্ডারের দল।

বাংলাদেশও অবশ্য একবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বড় লিড পেয়েও ম্যাচ জিততে পারেনি। ২০০৬ সালের ফতুল্লা টেস্টে প্রথম ইনিংসে ১৫৮ রানের লিড নিয়েছিল বাংলাদেশ। পরে রিকি পন্টিংয়ের সেঞ্চুরিতে ম্যাচ ঘুরিয়ে জয় পায় অস্ট্রেলিয়া।

 

তবে এবার পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা। তিন দিন ধরে ম্যাচের প্রতিটি সেশনেই কোনো না কোনোভাবে এগিয়ে থেকেছে বাংলাদেশ। প্রথম দিন হাসান মাহমুদের ৬ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে থামানো, দ্বিতীয় দিনে তানজিদের সেঞ্চুরি ও শান্তর ৮৪, আর তৃতীয় দিনে মিরাজের লড়াইয়ে ২২৮ রানের লিড। তারপর দিনের শেষ ভাগে হাসান, তাইজুল ও মিরাজের বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার চার উইকেট তুলে নেওয়া সেই চাপ আরও বাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে টেস্টের আধিপত্য বাংলাদেশের হাতেই!


   আরও সংবাদ