আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অগাস্ট, ২০২৬ ১৬:৩৩ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৯ বার
রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মালেহুল সালেহীন প্রত্যয়, রোসাটমের ৭ম আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষামূলক অভিযান ‘আইসব্রেকার অফ নলেজ’ শেষ করে রাশিয়ার মুরমানস্ক শহরে ফিরেছেন।
দশ দিনের এই যাত্রায়, পারমাণবিক আইসব্রেকার ‘বিজয়ের ৫০ বছর’ (50 Let Pobedy) এ প্রত্যেয়ের সঙ্গে ছিল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মেধাবী শিক্ষার্থীরা।
অভিযানটির রুট ছিল মুরমানস্ক–উত্তর মেরু–ফ্রাঞ্জ জোসেফ ল্যান্ড–মুরমানস্ক। জলপথে এটি ছিল ২০০তম উত্তর মেরু অভিযান।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয় ৷
নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে প্রত্যয় বলে, স্বপ্ন থেকে বিশ্বের চূড়ায় পৌঁছানোর এই যাত্রা আমার জন্য অবিস্মরণীয়। ২২টি দেশের মানুষ, সংস্কৃতি এবং ভাষার সঙ্গে গভীরভাবে পরিচিত হবার অনন্য সুযোগ পেয়েছি আমি।
মেরিন বায়োলজি, নিউক্লিয়ার ফিজিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আরও অনেক বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ ঘটেছে। উত্তর মেরু আমাকে যে জ্ঞান, বন্ধুত্ব এবং স্মৃতি উপহার দিয়েছে তা আমি চিরকাল সযত্নে লালন করব।
১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সি মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই অভিযানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রত্যয় এর আগে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স কম্পিটিশন, দ্য কুইনস কমনওয়েলথ রচনা প্রতিযোগিতা, ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ ম্যাথ চ্যালেঞ্জ এবং বাংলাদেশ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অলিম্পিয়াডসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করেছে।
পারমাণবিক আইসব্রেকার ‘বিজয়ের ৫০ বছর’ এর ক্যাপ্টেন রুসলান সাসোভ বলেন, এ ধরনের সমুদ্রযাত্রা পরবর্তী প্রজন্মের বিকাশে সত্যিই অবদান রাখতে সক্ষম। সবচেয়ে উজ্জ্বল এবং মেধাবী তরুণেরা এই অভিযানগুলোতে অংশ নিয়ে থাকে। তাদের অনেকেরই উত্তর মেরু পরিদর্শন এবং মেরু ভল্লুক দেখার স্বপ্ন ছিল, আর আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে রসাটম এবং আমাদের নাবিক দল সেই স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করেছে।
অংশগ্রহণকারীদের জন্য জাহাজে একটি বিশদ বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। জাহাজটির মধ্যে অন্যান্য সুবিধার মধ্যে ছিল একটি সত্যিকারের অ্যারোস্পেস ল্যাবরেটরি, যেখানে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে বৈজ্ঞানিক কার্যকলাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল।
অভিযান চলাকালীন অংশগ্রহণকারীরা বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি দুটি অনন্য পরীক্ষায় কাজ করেছে। তারা আর্কটিকের দুর্গম এলাকায় এবং উত্তর সমুদ্রপথ বরাবর যোগাযোগে সহায়তার জন্য ডিজাইন করা একটি রেডিওসোন্ড (radiosonde) উৎক্ষেপণ করে। এছাড়া তারা বিশ্বের প্রথম পুনরুদ্ধারযোগ্য স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারিক প্ল্যাটফর্ম পরীক্ষাতেও অংশগ্রহণ করেছিল।
রোসাটমের সায়েন্টিফিক ডিভিশনের অংশ, এনআইআইটিএফএ (NIITFA)-র প্রজেক্ট ম্যানেজার ইয়েগোর প্লাখোটনিউক্ বলেন, রোসাটমে আমরা প্রতিদিন এমন সব প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করি যা গতকালও সায়েন্স ফিকশন বা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি বলে মনে হতো। অভিযানকালে কিশোররা রুশ বিজ্ঞান সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করে। রুশ বিজ্ঞান বাস্তব প্রযুক্তি উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করে যা মানুষের জীবনকে উন্নত করতে ভূমিকা রাখে।
অভিযাত্রী দলটি উত্তর মেরুতে পৌঁছানোর পর, পৃথিবীর সর্ব উত্তর প্রান্ত ৯০° পয়েন্টের চারপাশে একটি প্রতীকী বৃত্তাকার নৃত্যে অংশ নেয়। নৃত্যের সঙ্গে ছিল বাশকোর্তোস্তানের জনপ্রিয় মিউজিক্যাল গ্রুপ 'AY YOLA'।
একটি সৃজনশীল প্রকল্পও এই অভিযানে অন্তর্ভুক্ত ছিল। সমুদ্রযাত্রার সময় অংশগ্রহণকারীরা একটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি তৈরি করতে সায়েন্স ফিকশন লেখক সের্গেই লুকিয়ানেনকোর সাথে কাজ করেছে। গল্পটি পরে রোসাটমের 'আইসব্রেকার অফ নলেজ' প্রজেক্টের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলোতে প্রকাশ করা হবে।
‘আইসব্রেকার অফ নলেজ’ হলো রসাটমের সহায়তায় পরিচালিত একটি বৈজ্ঞানিক এবং শিক্ষামূলক প্রকল্প। এর লক্ষ্য হল, তরুণদের প্রাকৃতিক বিজ্ঞান এবং পারমাণবিক প্রযুক্তি অন্বেষণে উৎসাহিত করা, মেধাবী শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করা, তাদের সক্ষমতা বিকাশে সহায়তা এবং ক্যারিয়ার নির্দেশিকা প্রদান করা। গত সাতটি সিজনে, 'আইসব্রেকার অফ নলেজ' প্রকল্পটি বিভিন্ন দেশ থেকে ৪৭০ জনেরও বেশি মেধাবী স্কুল শিক্ষার্থীকে আর্কটিক ভ্রমণের সুযোগ করে দিয়েছে।
রাশিয়া বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র দেশ যাদের একটি সচল পারমাণবিক আইসব্রেকার নৌবহর রয়েছে এবং তারা 'আইসব্রেকার অফ নলেজ'-এর মতো শিক্ষামূলক অভিযানের মাধ্যমে তরুণদের উত্তর মেরু অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ দিয়ে থাকে।