ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং হাসানের

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ১৩ অগাস্ট, ২০২৬ ১৩:২৬ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩১ বার


অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং হাসানের

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৩ বছর পর তাদের মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত করেছে বাংলাদেশ। আর সেই শুরুর নায়ক হাসান মাহমুদ।

ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন এই পেসার। ৫৫ রানে ৬ উইকেট শিকার করেছেন হাসান।

এর আগে ৫ উইকেট থাকলেও এবারই প্রথম ৬ উইকেট শিকার করলেন ডানহাতি এই পেসার।

 

নতুন বল হাতে শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনারকে অস্বস্তিতে রেখেছিলেন হাসান।

তাঁর প্রথম শিকার জেক ওয়েদারাল্ড। ২৩ রানে থাকা অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার অফ স্টাম্পের বাইরের বলগুলোতে বারবার ব্যাট চালাচ্ছিলেন।

হাসানের করা বাইরের বলটিতে বড় শট খেলতে গিয়ে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি। তাতেই ৪৫ রানে প্রথম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।

 

ওয়েদারাল্ডকে ফেরানোর পরের ওভারেই আবার আঘাত হাসানের। এবার শিকার ট্রাভিস হেড। ২২ রান করা বাঁহাতি এই ব্যাটারকে রান করার সুযোগ দিয়েও শেষ পর্যন্ত ফাঁদে ফেলেন বাংলাদেশের পেসার। অফ স্টাম্পের বাইরে থেকে করা বলটি হেড কাট করতে যান। বল ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে সরাসরি লেগ স্টাম্পে আঘাত করে।

এরপর বেশ কিছুক্ষণ উইকেটের দেখা পাননি হাসান। মাঝে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে লড়াই জমিয়ে তোলেন স্টিভ স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি। তবে দ্বিতীয় সেশনের পর আবারও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন হাসান। তাঁর চতুর্থ স্পেলে ফিরে এসে প্রথমেই বিদায় করেন প্যাট কামিন্সকে।

পরের ওভারেই হাসানের আরেক শিকার মিচেল স্টার্ক। অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার মাত্র ১ রান করে ফিরেছেন। অফ স্টাম্পের বাইরে থেকে শর্ট অব লেংথের বলটি শরীরের কাছ থেকে দূরে গিয়ে ব্যাট দিয়ে ঠেকাতে চেয়েছিলেন স্টার্ক। পায়ের কোনো মুভমেন্ট ছিল না, ব্যাটও ছিল শক্ত হাতে। ফলে সামান্য বাইরের কানায় লেগে বল চলে যায় লিটন দাসের হাতে। ১৭৬ রানে অষ্টম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।

এরপরও শেষ হয়নি হাসানের দাপট। এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা স্টিভ স্মিথই তখন অস্ট্রেলিয়ার শেষ ভরসা। ৭১ রান করে দলকে লড়াইয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাসানের পাতা ফাঁদেই পা দেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। অফ স্টাম্পের বাইরে ফিল্ডার ছড়িয়ে রেখে স্মিথকে আক্রমণাত্মক শট খেলতে প্রলুব্ধ করেন হাসান। শর্ট বল পেয়ে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে কভারের ওপর দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন স্মিথ। কিন্তু শটের সময় ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। বল উঠে যায় আকাশে, লিটনের তালুবন্দি হতেই পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান মাহমুদ।

এখানেই থেমে থাকেননি হাসান। তুলে নেন শেষ ব্যাটার নাথান লায়নের উইকেটও। হাসানের শর্ট ডেলিভারিতে ঠিকঠাক পুল করতে পারেননি তিনি। ব্যাটের কানায় লেগে বল উঠে যায় মিডউইকেটে। সেখানে সহজ ক্যাচ নেন তানজিদ হাসান।

দিন শেষে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নেন হাসান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে এটি বাংলাদেশের কোনো বোলারের সেরা বোলিং। এই প্রথম কোনো ইনিংসে পাঁচটির বেশি উইকেট পেলেন হাসান। টেস্টে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে এটি তৃতীয় সেরা বোলিং।


   আরও সংবাদ