ঢাকা, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

মার্চ-এপ্রিলে বাজেট প্রস্তাবনা নিরর্থক

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ২২:২৮ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২২ বার


মার্চ-এপ্রিলে বাজেট প্রস্তাবনা নিরর্থক

বাজেট সামনে রেখে ট্রেড বডিসহ যেসব প্রতিষ্ঠান বাজেট প্রস্তাব দেয়, তা মূল বাজেট প্রস্তুত হয়ে যাওয়ায় অপ্রয়োজনীয় প্রস্তাব হয়ে যায় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ।

তিনি বলেন, এসময় বাজেট প্রস্তাবনা দেওয়ায় অনেক দেরি হয়ে যায়।

কারণ ততক্ষণে এনবিআর বাজেটের মূল কাঠামো প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলে। তাই ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর উচিত ডিসেম্বর বা জানুয়ারির মধ্যে তাদের প্রস্তাবনাগুলো জোরালোভাবে পেশ করা।

মার্চ-এপ্রিলে বাজেট প্রস্তাবনা অনেকটা নিরর্থক।

 

রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: বেসরকারি খাতের উদ্যোগ ও দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সেমিনার যৌথভাবে আয়োজন করে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)।

 

মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, রাজস্ব আদায়ের স্বচ্ছতার সঙ্গে গতিশীল করতে এনবিআর থেকে নীতি নির্ধারণী অংশটিকে আলাদা করতে হবে।

যারা ট্যাক্স সংগ্রহ করেন তারাই যদি নীতি নির্ধারণ করেন, তাহলে সেখানে স্বচ্ছতার অভাব থাকে। এনবিআরের কাজে আরও স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা আনা প্রয়োজন। এতে পরিচালনার খরচ কমে।

 

রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গবেষণা ছাড়া কাজ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার বলে দেয় রাজস্ব বাড়াতে হবে, তারা বলে বাড়াবো। কিন্তু কোথায় কোন খাত থেকে কত রাজস্ব বাড়বে, সে ব্যাপারে কোনো গবেষণা থাকে না, তথ্য থাকে না। সরকার বলে দিলো ৫ শতাংশ বা ১০ শতাংশ বাড়বে, তারা বলে দিলো বাড়াবো। কিন্তু এর কোনো ভিত্তি নেই। রাজস্ব বৃদ্ধি করতে হলে এর ভিত্তি হতে হবে ডেটা। এজন্য ডেটা সংগ্রহ করতে হবে, সংরক্ষণ করতে হবে। জাপানের চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রির একটা বড় সেকশনই আছে, এই ডেটা নিয়ে গবেষণা করে। আর তার ভিত্তিতে সেখান থেকে রাজস্ব কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় আগামী বাজেটে রাজস্ব ৫ শতাংশ না ১০ শতাংশ বাড়বে।

১৯৭২ সালের প্রথম বাজেটের উদাহরণ দিয়ে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান বলেন, সে সময় প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ বাজেটে স্পষ্ট করে দেখিয়েছিলেন কত রাজস্ব হবে, সেই রাজস্ব কোন খাত থেকে পাব। এমন হলে ওই খাতে যারা আছে তাদের দায়বদ্ধতা তৈরি হয়ে যায়। কিন্তু এখন এনবিআরে সেরকম দায়বদ্ধতা নেই।

গবেষণার পাশাপাশি রাজস্বনীতি তৈরির ক্ষেত্রে তিনি শিল্পনীতির রাজস্বনীতির সামঞ্জস্যেও জোর দেন।

করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বৃদ্ধি ও ট্যাক্স রিটার্ন সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পরামর্শ দিয়ে মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, একেকটি এফডিআর, একেক সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে টিআইএন ও রিটার্ন বাধ্যতামূলক করতে হবে। পাশাপাশি যত বাড়ির মালিক আছেন তাদের সবাইকে টিআইএন ও আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক করতে হবে। তাহলে আপনা-আপনি টিআইএন দুই কোটি হবে, বেড়ে যাবে আয়কর রিটার্ন ও রাজস্ব আদায়। এজন্য সব কিছু অটোমেশন করতে হবে। তবে অটোমেশনও করতে হবে দেশি ভেন্ডর দিয়ে, বিদেশি ভেন্ডর দিয়ে অটোমেশন করলে প্রতি বছর নতুন করে শুরু করতে হবে, শেষ হবে না।


   আরও সংবাদ