ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ব্যাংক ঋণনির্ভর বাজেট না দেওয়ার পরামর্শ

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:৪৫ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২১ বার


ব্যাংক ঋণনির্ভর বাজেট না দেওয়ার পরামর্শ

ব্যাংক ঋণনির্ভর বাজেট না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা। তারা বলেন, বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেওয়ার জন্য ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে যত পারা যায় কম ঋণ নিতে হবে।

যাতে ব্যবসায়ীরা ঋণ পায়। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এমন বাজেট প্রণয়ন করা ঠিক হবে না, যাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়।

 

সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ও সমকাল আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় আর্থিক খাতবিষয়ক সেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আক্তার হোসেন বলেন, ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ যত কম হবে, ততই ভালো।

বর্তমান বাস্তবতায় সরকারকে জনতুষ্টিমূলক বাজেট না দিয়ে সংকোচনমূলক বাজেট করতে হবে। পাশাপাশি সতর্কতার সঙ্গে বাজেট দিতে হবে।

এমন বাজেট প্রণয়ন করা ঠিক হবে না, যাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়, সাধারণ মানুষ কষ্টে পড়ে।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা স্বল্পমেয়াদি আমানত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন করি। সরকারকে ব্যাংক থেকে ঋণ কম নিতে হবে। কর আদায় ব্যবস্থাপনা ডিজিটাইজেশন করতে হবে। স্বচ্ছতা বাড়াতে পুরো লেনদেন ব্যবস্থাপনাকে ক্যাশলেস করতে হবে।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান শরীফ জহীর বলেন, ব্যাংক খাতের উচ্চ খেলাপি ঋণ একটা বড় সমস্যা। পাশের দেশ ভারতে আড়াই শতাংশ, পাকিস্তানে খেলাপির হার ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশে ব্যাংক খাতের খেলাপি ৩০ শতাংশের ওপরে। সামগ্রিক ব্যাংক খাতে এখন ৩ শতাংশের মতো মূলধন ঘাটতি রয়েছে। মন্দ ঋণ কমানোর একটা ফ্রেমওয়ার্ক করতে হবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসতে হবে। সরকারের স্বচ্ছতার জন্য সব মন্ত্রণালয়, প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।

অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগে আনতে উদ্যোগ নিতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ডিসিসিআইর সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ। তিনি বলেন, বিপুল এ অর্থ মেইনস্টিমে আনতে না পারলে বিদেশে পাচার হয়ে যাবে।  

হোসেন খালেদ বলেন, শতভাগ অনলাইনে কর পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে। ব্যবসায়ী ও কর আদায় কর্মকর্তার মধ্যে যোগাযোগ যত কম হবে, তত ভালো।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের ওপর সব দিক থেকে নজরদারি বেশি। ব্যাংক শুধু তার লভ্যাংশের ওপর কর দেয় তেমন না, তার মানবসম্পদ, বিভিন্ন ধরনের লেনদেনসহ বিভিন্নভাবে কর দেয়। বর্তমান কর হার ২৫ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনতে হবে। এর মাধ্যমে ব্যাংক খাতের মূলধন বাড়ানোর সুযোগ দিতে হবে। 

হোসেন খালেদ বলেন, ব্যবসা শুরু করা যেমন সহজ করা উচিত, একইসঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা, কোনো কারণে বন্ধ হলে পুনরায় চালু করাও সহজ করতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মোট লেনদেনের মাত্র ৩০ শতাংশ হচ্ছে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে। বাকি ৭০ শতাংশ নগদ বা ম্যাট্রেস মানি। এটা কমাতে হবে। স্বচ্ছতার জন্য আমাদের লেনদেন ডিজিটাইজ করতে হবে।

আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। প্রাক-বাজেট আলোচনার চারটি সেশনে সভাপতিত্ব করছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ। 


   আরও সংবাদ