স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:২২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩১ বার
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের মাঠের লড়াই শুরুর আগেই উত্তাপ ছড়াচ্ছে টিকিটের দাম। ৪৮টি দল চূড়ান্ত হওয়ার পর গতকাল থেকে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপের সর্বশেষ টিকিট বিক্রির উইন্ডো।
আর নতুন এই ধাপে টিকিটের দাম বাড়ানো হয়েছে অবিশ্বাস্য হারে। বিশেষ করে ফাইনাল ম্যাচের শীর্ষ ক্যাটাগরির টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ৯৯০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা।
বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই বিক্রয় উইন্ডোতে দেখা গেছে, মোট ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৪০টি ম্যাচের দাম আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। গত ডিসেম্বরে ড্রয়ের পর যখন টিকিট বিক্রি হয়েছিল, তখন ফাইনালের শীর্ষ ক্যাটাগরির টিকিটের দাম ছিল ৮ হাজার ৬৮০ ডলার। অর্থাৎ কয়েক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে দুই হাজার ডলারেরও বেশি।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালের শুধু শীর্ষ ক্যাটাগরিই নয়, দাম বেড়েছে অন্য ক্যাটাগরিতেও।
'ক্যাটাগরি ২' টিকিটের দাম ৫ হাজার ৫৭৫ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩৮০ ডলারে। একইভাবে ‘ক্যাটাগরি ৩’-র দাম ৪ হাজার ১৮৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার ৭৮৫ ডলার করা হয়েছে।
মূল্যবৃদ্ধির এই প্রভাব পড়েছে নকআউট পর্ব এবং উদ্বোধনী ম্যাচেও। সেমি-ফাইনালের টিকিটের দাম ৩ হাজার ২৯৫ ডলার থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৭১০ ডলার পর্যন্ত হয়েছে।
মেক্সিকো বনাম সৌদি আরবের উদ্বোধনী ম্যাচের টিকিটের দামও ডিসেম্বরের তুলনায় ৬৩০ ডলার বেড়ে এখন ২ হাজার ৯৮৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ফিফা এবারই প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো বিশ্বকাপে ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ মডেল চালু করেছে। এই পদ্ধতিতে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী টিকিটের দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ে বা কমে। তবে এই পদ্ধতি ফুটবল প্রেমীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। কোনো নির্দিষ্ট ঘোষণা ছাড়াই টিকিট ছাড়ায় ক্রেতাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফিফার সাইটে অপেক্ষা করতে হয়েছে, পোহাতে হয়েছে যান্ত্রিক বিভ্রাটও।
ফিফার এই বিতর্কিত টিকিট নীতির প্রতিবাদে সরব হয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের ৬৯ জন ডেমোক্র্যাটিক সদস্য। পাশাপাশি ইউরোপের গ্রাহকদের একটি প্রতিনিধি দল ইউরোপীয় কমিশনের কাছে এই অতিরিক্ত দামের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। সমালোচনা সত্ত্বেও ফিফা জানিয়েছে, চাহিদা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে টুর্নামেন্ট চলাকালীন আরও টিকিট ছাড়া হবে।