ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ নভেম্বর, ২০২৬ ১৯:৩৩ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১২ বার
ঢাকা: শিক্ষকদের আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, শিক্ষক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার ও প্রয়োগকে গুরুত্ব দিতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষকরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারেন। এ জন্য জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিকে (নায়েম) অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) ‘২১০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স’-এর সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাবে শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আসছে।
এআইয়ের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারলে আমাদের পিছিয়ে পড়তে হবে। তাই শিক্ষক প্রশিক্ষণেও এআইয়ের ব্যবহার ও প্রয়োগের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষকদের অনেকেরই এখনো প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়নি। তাদের দ্রুত প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে।
এর আগে শিক্ষামন্ত্রী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পরে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন তিনি।
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা কোনো ধরনের ওরিয়েন্টেশন ছাড়াই শিক্ষকতায় যোগ দেন। প্রশাসন ও শিক্ষা ক্যাডারের মধ্যে পার্থক্য এবং পরবর্তী সময়ে সৃষ্ট বৈষম্যের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ত্রুটিই দায়ী।
তিনি বলেন, প্রশাসন ক্যাডার ও শিক্ষা ক্যাডারের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে। এ কারণে পদে পদে বৈষম্য দেখা দিচ্ছে। এর দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা চার-পাঁচ মাস প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মস্থলে যোগ দেন। অথচ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই।
শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অবমূল্যায়নের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, অনেক সময় তাদের ছোট করে দেখা হয়। অথচ তারাও বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পান। অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মতো একই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই তারা শিক্ষকতায় আসেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আমরা শুধু এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে বেশি আলোচনা করি। ডিগ্রি, অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষা নিয়ে তেমন কথা বলি না। ধরে নেওয়া হয়, শিক্ষার্থীরা নিজেরাই পড়বে ও শিখবে। কিন্তু এসব পর্যায়ে শিক্ষার মান কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, সেটিও দেখতে হবে।
শিক্ষা খাতে সরকারের বরাদ্দের প্রসঙ্গ তুলে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দিয়েছেন। আগামীর বাংলাদেশ গড়তে সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নায়েমের প্রশিক্ষণ ও বাস্তবায়ন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক প্রিম রিজভী। এতে সভাপতিত্ব করেন নায়েমের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. ওয়াসীম মো. মেজবাহুল হক।