ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ নভেম্বর, ২০২৬ ১৯:৩৫ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৪ বার
রাজধানীর মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১ এলাকার ফুটপাতে আর হকার বসতে দেওয়া হবে না। তবে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসনে বিকল্প স্থান খুঁজছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
দ্রুতই তাদের জন্য বিকল্প জায়গায় দোকান বসানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা জানান।
এ সময় মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসনের দাবিতে প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
আলোচনায় ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, হকাররা সমাজেরই অংশ।
তাদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে মিরপুর-১০, মিরপুর-১ ও উত্তরায় বিকল্প স্থান খোঁজা হচ্ছে। খুব দ্রুতই সেখানে তাদের বসার ব্যবস্থা করা হবে।
এ ছাড়া উচ্ছেদ হওয়া হকারদের জন্য সরকারের ‘হলিডে মার্কেট’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা যদি হকারদের জন্য বিকল্প স্থানে তিন থেকে পাঁচশ দোকান বসার ব্যবস্থা করি, তবে ক্রেতারাও সেখানে আসবেন এবং কেনাবেচাও ভালো হবে।
উচ্ছেদ অভিযানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, আমরা বাধ্য হয়েই ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা ও হকারদের উচ্ছেদ করেছি। আজকের এই পরিস্থিতির জন্য কিছু সিন্ডিকেট ও হকাররা নিজেরাই দায়ী। তারা ফুটপাত ছাড়িয়ে রাস্তা পর্যন্ত দখল করে রেখেছিলেন, যার ফলে সাধারণ মানুষের হাঁটার কোনো পথ ছিল না। এমনকি সাধারণ জনগণ জানতেই পারতেন না যে তাদের চলাচলের জন্য ফুটপাত ছিল। উচ্ছেদ অভিযানের পর জনগণ স্বস্তি পেয়েছেন এবং এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১-এর ফুটপাতে আর কোনো হকারকে বসতে দেওয়া হবে না। তবে তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে। নতুন জায়গায় হকারদের নিজস্ব যানচালিত দোকান থাকবে; সেখানে কোনো চৌকি বসানো যাবে না।
সাক্ষাৎকালে হকার প্রতিনিধিদল ও ডিএনসিসি প্রশাসক একমত হন, গত ৫ আগস্টের পর অনিয়ন্ত্রিত হকারদের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তবে আগে যারা প্রকৃতপক্ষে হকারি করতেন, শুধু তাদেরই বিকল্প স্থানে বসার ব্যবস্থা করা হবে।
বৈঠকে হকার্স প্রতিনিধিদল ও ডিএনসিসি প্রশাসক পরস্পরের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রাখার অঙ্গীকার করেন এবং সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এ সময় গুলশান জোনের উপকমিশনার মো. রুহুল কবির, গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), বনানী থানার ওসিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।