ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

তাইওয়ান ঘিরে চীনের তৎপরতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ২ নভেম্বর, ২০২৬ ১৯:৩৮ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৪ বার


তাইওয়ান ঘিরে চীনের তৎপরতা

সমুদ্রপথে চীনের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা আন্তর্জাতিক আইন ও গণতান্ত্রিক দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ তৈরি করছে। সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়েও অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বেইজিং ‘গ্রে-জোন’ কৌশল ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন যুক্তরাজ্যে তাইপেই প্রতিনিধি কার্যালয়ের প্রতিনিধি ভিনসেন্ট চিন-হসিয়াং ইয়াও।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যসহ সমমনা দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

এক নিবন্ধে হসিয়াং ইয়াও বলেন, সমুদ্রে কর্তৃত্ববাদী দেশগুলোর এ ধরনের তৎপরতা আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন ও ব্যবস্থাকে দুর্বল করছে।

সরাসরি যুদ্ধের পর্যায়ে না গিয়েও এসব দেশ অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং নিজেদের কৌশলগত সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে।

 

এ ধরনের কর্মকাণ্ডের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, গত বছর রাশিয়ার গবেষণা জাহাজ ‘ইয়ান্তার’ দুবার ব্রিটিশ জলসীমায় প্রবেশ করে।

এ সময় জাহাজটির নাবিকেরা পানির নিচের যোগাযোগ ক্যাবলের আশপাশে অবস্থান করেন। পাশাপাশি ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর পাইলটদের লক্ষ্য করে লেজার নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।

 

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালে বাল্টিক সাগরে একটি চীনা জাহাজের বিরুদ্ধে নোঙর টেনে নিয়ে কয়েকটি ফাইবার-অপটিক ক্যাবলের ক্ষতি করার অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর অবস্থান ও দুর্বলতা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

তাইওয়ানকে ঘিরে চীনের সামরিক তৎপরতা আরও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন হসিয়াং ইয়াও। তাঁর ভাষ্য, ১০ অক্টোবর তাইওয়ানের জাতীয় দিবস পালনের পরদিনই চীন সামরিক মহড়ার ঘোষণা দেয়। এর এক দিনের মধ্যে গোলাবর্ষণসহ সামরিক মহড়া শুরু হয়। এর মধ্য দিয়ে বেইজিং তাইওয়ানের গণতান্ত্রিক স্বশাসনের প্রতি নিজেদের বিরোধিতার বার্তা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হসিয়াং ইয়াও বলেন, আগাম সতর্কতা ছাড়াই এ ধরনের সামরিক মহড়া আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ও বেসামরিক বিমান চলাচলবিষয়ক নিয়মের পরিপন্থী। এতে নৌ ও আকাশপথে চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে। ২০২৫ সালে তাসমান সাগরেও চীনা নৌবাহিনী আগাম সতর্কতা ছাড়াই গোলাবর্ষণের মহড়া চালায়। পরে এক বিমানচালকের সতর্কবার্তার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া বিষয়টি জানতে পারে।

তার আশঙ্কা, তাইওয়ানের পূর্বদিকে চীনা জাহাজের উপস্থিতি বাড়ানো এবং বাণিজ্যিক জাহাজ তল্লাশির মাধ্যমে বেইজিং কার্যত দ্বীপটিকে বাইরের বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করার সক্ষমতা তৈরি করছে। তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে কোনো যুদ্ধ শুরু হলে তা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

ব্লুমবার্গের হিসাব উদ্ধৃত করে নিবন্ধে বলা হয়, তাইওয়ানকে ঘিরে যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১০ শতাংশ ক্ষতি হতে পারে। একই সঙ্গে তাইওয়ানে উৎপাদিত গুরুত্বপূর্ণ সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে শিল্প ও প্রযুক্তি খাত বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

এ পরিস্থিতিতে সমুদ্রপথে তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানো, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষা জোরদার এবং নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন হসিয়াং ইয়াও। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন মেনে শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির নীতি রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ


   আরও সংবাদ