আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৪২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩১ বার
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে কেবল সংলাপ ও কূটনীতির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই ভারত। এবার যুদ্ধ বন্ধে দুই দেশের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা এবং বাস্তবসম্মত সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে নয়াদিল্লি।
রোববার (০৪ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত এই সংঘাত নিরসনে আগের চেয়ে কিছুটা বেশি সক্রিয় হয়েছে। কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা, খাদ্যশস্য ও জ্বালানি রপ্তানি এবং একে অপরের ওপর হামলা বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
টাইম অব ইন্ডিয়া আরো জানিয়েছেন, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত মিউনিখ লিডার্স মিটিংয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার সংঘাত অত্যন্ত দুঃখজনক। ভারতের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট।
দেশটি এই যুদ্ধের অবসান চায়। তবে এ জন্য সংলাপ, কূটনীতি ও আলোচনার বিকল্প নেই।
দীর্ঘদিন ধরে ভারত এই অবস্থানের পক্ষে কথা বললেও সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়ে সংঘাত নিরসনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে।
জয়শঙ্কর বলেন, কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি দিয়ে ভারতের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। তবে এখন আলোচনার পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়েরই খাদ্যশস্য ও জ্বালানি রপ্তানি নিয়ে কিছু জরুরি উদ্বেগ রয়েছে। পাশাপাশি একে অপরের ওপর হামলা না করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে। এসব বিষয়ে দুই দেশের সঙ্গে ভারতের আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
ভারতের শান্তি প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিচ্ছে ইউক্রেন
ভারতের এই উদ্যোগের কথা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষ থেকেই নয়াদিল্লির কূটনৈতিক প্রচেষ্টার স্বীকৃতি পাওয়া যাচ্ছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি বলেছেন, যুদ্ধের একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভালো কিছু ধারণা রয়েছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির বিষয়ে ভারতসহ চারটি দেশের কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েছে কিয়েভ। এর মধ্যে ভারতের প্রস্তাবকে সবচেয়ে বিস্তৃত ও পূর্ণাঙ্গ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
এর আগে নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের অবসানের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অন্তহীন যুদ্ধের পরিবর্তে এবার যুদ্ধের সমাপ্তি হওয়া প্রয়োজন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ইউক্রেন সফরের সময় জানিয়েছিলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই চালিয়ে এই সংঘাতের সমাধান সম্ভব নয়। এ জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আলোচনার প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন জয়শঙ্কর। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন এবং চীনের উত্থান বর্তমান বিশ্বব্যবস্থাকে নতুনভাবে প্রভাবিত করছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিবর্তিত অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় নতুন শূন্যতা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের তীব্র প্রতিযোগিতা বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলছে।
জয়শঙ্কর বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে উদীয়মান ও মধ্যম শক্তির দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে সরবরাহব্যবস্থা, যোগাযোগ, প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দেশগুলোর পারস্পরিক নির্ভরতা ও ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে।