ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় আজ

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৫ অগাস্ট, ২০২৬ ১০:২৩ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১১ বার


শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় আজ

মাগুরার আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর হাইকোর্টের রায় আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঘোষণা করা হবে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

 

আদালতে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।

 

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছর বয়সী শিশুটি। অভিযোগ, তার বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তাকে ধর্ষণের পর হত্যারও চেষ্টা করেন।

 

পরে গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

 

এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলাটিতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।

 

 

গত বছরের ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয় মামলার বিচারিক কার্যক্রম। এরপর ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক শেষে ১৭ মে রায় ঘোষণা করা হয়।

রায়ে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

তবে মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। তারা হলেন—নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীব শেখের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, কোনো বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার নথি উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ মে এ মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক তৈরির জন্য তা বিজি প্রেসে পাঠানো হয়।

পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর গত ৮ জুন তা হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর মামলাটি শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকায় ওঠে।

আজকের রায়ে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে, নাকি পরিবর্তন হবে—সেদিকেই তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্টরা।


   আরও সংবাদ