ঢাকা, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

তিন বছর পর ফিরছে ফিলিস্তিনের ফুটবল

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৪৩ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৬ বার


তিন বছর পর ফিরছে ফিলিস্তিনের ফুটবল

অধিকৃত পশ্চিম তীরের কেন্দ্রীয় শহর আল-বিরেহ-এর ‘থাকাফি আল-বিরেহ স্পোর্টস ক্লাব’-এর মাঠে কোচদের তীক্ষ্ণ নজরদারিতে কমলারঙা মার্কারের চারপাশ দিয়ে দৌড়াচ্ছেন প্রায় ২৫ জন ফুটবলার। দীর্ঘ প্রায় তিন বছর অফিসিয়াল প্রতিযোগিতার বাইরে থাকার পর ফিলিস্তিনে ফুটবলের ফেরার প্রস্তুতি নিতে পাস-টু-পাস খেলে হারিয়ে যাওয়া ছন্দ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন খেলোয়াড়রা।

 

ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীর, গাজা ভূখণ্ড এবং প্রবাসী ফিলিস্তিনি কমিউনিটির (ডায়াসপোরা) মধ্যে ফুটবল কার্যক্রম পুনরায় শুরু হতে যাচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনী গণহত্যা শুরু করার পর থেকে ফিলিস্তিনে সব ধরনের অফিসিয়াল ফুটবল কার্যক্রম স্থগিত ছিল।

 

তবে প্রতিযোগিতার পুনরারম্ভ মানেই ফিলিস্তিনি ফুটবলের সার্বিক উত্তরণ নয়। পশ্চিম তীরের ক্লাবগুলো এখনও চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ এবং চরম আর্থিক সংকটে ভুগছে।

অন্যদিকে গাজা ভূখণ্ডের ক্লাবগুলোর জন্য বাস্তবতা আরও ভয়াবহ; যুদ্ধের সময়ে স্টেডিয়াম ও ক্রীড়াকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি অনেক খেলোয়াড়, কোচ ও সংগঠকের প্রাণহানি ঘটেছে।

 

থাকাফি আল-বিরেহ ক্লাবের কোচ ওমর বারগুতি জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ক্রীড়া কার্যক্রম বন্ধ থাকায় খেলোয়াড়দের অগ্রগতিতে বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

সংবাদসংস্থা আনাতোলুকে তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলি সামরিক তল্লাশি চৌকি (চেকপয়েন্ট) এবং পশ্চিম তীরের ভৌগোলিক খণ্ডবিখণ্ডতার কারণে দল ও খেলোয়াড়দের যাতায়াত চরম কঠিন হয়ে পড়েছিল। অন্যদিকে প্রতিযোগিতা বন্ধ থাকা সরাসরি নতুন প্রজন্মের প্রস্তুতির ওপর প্রভাব ফেলেছে, কারণ অ্যাথলেটিক উন্নয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বছরগুলো তারা হারিয়েছে।’

 

বারগুতি আরও যোগ করেন, ‘যুদ্ধের আগে ফিলিস্তিনি ফুটবল যে স্তরে পৌঁছেছিল, সেখানে আবার ফিরিয়ে আনা মোটেও সহজ হবে না। যে খেলোয়াড়ের বয়স খেলার স্থবিরতার শুরুতে ২৮ বছর ছিল, কোনো অফিসিয়াল ম্যাচ না খেলেই এখন তার বয়স ৩১ বছর হয়ে গেছে। অন্যদিকে জুনিয়র দলের তরুণেরা তাদের এমন কিছু বছর হারিয়েছে যা সহজে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।’

তিনি জানান, সেপ্টেম্বর থেকে মূল প্রতিযোগিতা শুরুর অংশ হিসেবে বর্তমানে বিভিন্ন গভর্নরশিপে পরীক্ষামূলক টুর্নামেন্টের আয়োজন করছে পিএফএ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আগামী বছর থেকে পূর্ণাঙ্গ মৌসুমে ফেরার পথ তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

দীর্ঘদিন খেলা না থাকায় ক্লাবগুলোর আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে গিয়ে আর্থিক স্থিতিশীলতা ধসে পড়েছে। থাকাফি আল-বিরেহ ক্লাবের স্পোর্টস সুপারভাইজার মোহাম্মদ সদর জানান, কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্তে আশা জাগলেও চেকপয়েন্টের কারণে যাতায়াত খরচ ও প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের ব্যয় বৃদ্ধির ফলে তারা বড় সংকটে আছেন।

তিনি বলেন, ‘খেলা বন্ধ থাকায় বেঁচে থাকার প্রয়োজনে অনেক খেলোয়াড়কে অন্য কাজে যুক্ত হতে হয়েছিল। ক্লাবগুলোর নতুন খেলোয়াড় সই করানোর আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় বর্তমানে ক্লাবের নিজস্ব খেলোয়াড়দের শারীরিক ফিটনেস ফিরিয়ে আনার ওপরই জোর দিচ্ছেন কোচিং স্টাফেরা।’

ফিলিস্তিনের যুব জাতীয় দল ও থাকাফি আল-বিরেহ ক্লাবের খেলোয়াড় বাসেল হারবাউই জানান, প্রতিযোগিতা না থাকায় খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা অর্জনের পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আনাতোলুকে তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে অফিসিয়াল টুর্নামেন্ট, চুক্তি ও চ্যাম্পিয়নশিপ না থাকায় নিজেদের মান বজায় রাখতে কেবল স্থানীয় কিছু সীমিত টুর্নামেন্টের ওপর ভরসা করতে হয়েছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিদেশে পেশাদার ফুটবলার হিসেবে খেলার যে স্বপ্ন আমার ছিল, তা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ আমার অভিজ্ঞতা অর্জনের সময়েই খেলাধুলা বন্ধ ছিল।’ তবে পুনরায় খেলা শুরু হলে তা ফিলিস্তিনি ফুটবলের উপস্থিতি জানান দেবে এবং তিনি সিনিয়র জাতীয় দলে খেলে বিদেশে পেশাদার হওয়ার সুযোগ পাবেন বলে আশা করছেন।

পিএফএ-এর মুখপাত্র দিমা ইউসেফ আনাতোলুকে জানান, প্রথম পর্যায়ে প্রচার বা অবনমন ছাড়া একটি ‘অ্যাক্টিভেশন পর্ব’ পরিচালিত হবে। পরবর্তীতে প্রতিযোগিতা চালুর বিস্তারিত প্রক্রিয়া ঘোষণা করা হবে।

তিনি জানান, গত তিন বছরে ফিলিস্তিনি ক্রীড়াঙ্গনে চরম ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্রীড়া সম্প্রদায়ের ১ হাজার জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন, হাজার হাজার মানুষ আহত বা নিখোঁজ এবং বেশিরভাগ ক্রীড়াকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। আগামী বছর প্রফেশনাল লিগের অষ্টম আসর চালুর আগে ক্রীড়া খাত পুনর্গঠন, ক্লাবগুলোকে মৌলিক সহায়তা এবং স্টেডিয়ামগুলো সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরি।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরু করে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৭৩ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৩ হাজার জনেরও বেশি আহত হওয়ার পর ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়। তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, প্রতিদিনের বোমাবর্ষণ, কঠোর অবরোধ এবং মানবিক, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা প্রবেশে বাধা দিয়ে ইসরায়েল এখনও যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে চলেছে।

সূত্র: আনাদলু অ্যাজেন্সি


   আরও সংবাদ