ঢাকা, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

বাজেটে ইতিবাচক সংস্কার দেখছে বিজিএমইএ

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৪ জুন, ২০২৬ ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৮ বার


বাজেটে ইতিবাচক সংস্কার দেখছে বিজিএমইএ

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামগ্রিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। সংগঠনটি বলছে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখেও সামষ্টিক অর্থনীতি সচল রাখা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার এ প্রয়াস প্রশংসনীয়।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায় বিজিএমইএ।

সংগঠনটি মনে করে, ২০৩৪ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রবৃদ্ধি কেন্দ্রিক ধারণা থেকে সরে এসে সামগ্রিক উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার পাশাপাশি আগামী অর্থবছরের জন্য ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিনিয়োগনির্ভর কর্মসংস্থান, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তাসহ ১০টি অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করা হয়েছে, যা এলডিসি উত্তরণের পথে সহায়ক হবে।

 

বাজেটের ইতিবাচক দিকগুলো–
বিজিএমইএর মতে, এবারের বাজেটে বিনিয়োগকারীদের সুবিধার জন্য কর কাঠামোর ধারাবাহিকতা অন্তত ৫ বছর বজায় রাখার পরিকল্পনা এবং এসআরও নির্ভরতা কমিয়ে রিস্ক বেইজড অডিট চালুর সিদ্ধান্ত শিল্পায়নে আত্মবিশ্বাস জোগাবে। এছাড়া নগদ সহায়তার বিপরীতে আয়কর কর্তনের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা, রাজস্ব ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন এবং অতিরিক্ত পরিশোধিত উৎসে কর ফেরত দেওয়ার জন্য অটোমেটেড ও ফেসলেস রিফান্ড ব্যবস্থা প্রবর্তন করদাতাদের স্বস্তি দেবে।

 

ব্যবসায় সহজীকরণে অনুমোদন ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় অনলাইনভিত্তিক সিঙ্গেল উইন্ডো বাধ্যতামূলক করা, ৭ দিনের মধ্যে লাইসেন্স প্রদান এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোম্পানি নিবন্ধন সম্পন্ন করার উদ্যোগ ব্যবসা পরিচালনার সময় ও ব্যয় কমিয়ে আনবে।

সবুজ শিল্প ও টেকসই উন্নয়ন
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত ০ শতাংশ কর হার এবং সৌর খাতের উপকরণ আমদানিতে ২০৩১ সাল পর্যন্ত শুল্ক-কর মওকুফের প্রস্তাবকে পরিবেশবান্ধব টেকসই শিল্পায়নে মাইলফলক হিসেবে দেখছে বিজিএমইএ। একইসঙ্গে রিসাইকেল্ড পণ্যের করহার ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা এবং ইটিপি রাসায়নিক আমদানিতে শুল্ক অব্যাহতি বজায় রাখার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি। এছাড়া পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি উৎপাদনকারী শিল্পে ২০৩০ সাল পর্যন্ত আমদানিতে শুল্ক সুবিধার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিজিএমইএর বিশেষ সুপারিশ
বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে পোশাক খাতের সক্ষমতা বজায় রাখতে সংগঠনটি কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে। বিজিএমইএ জানায়, গত ৩ বছরে প্রায় ৪০০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং রপ্তানি আয় ৩.৪১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো–

১. উৎস কর হ্রাস: পোশাক রপ্তানির বিপরীতে উৎসে কর ১.০০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৬৫ শতাংশ করা এবং তা আগামী ৫ বছরের জন্য স্থিতিশীল রাখা।

২. নগদ সহায়তায় কর মওকুফ: নগদ সহায়তার ওপর আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করায় ধন্যবাদ জানালেও বর্তমান তারল্য সংকটে এটি সম্পূর্ণ মওকুফ (০%) করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

৩. দ্বৈত কর নিরসন: সাব-কন্ট্রাক্ট মূল্যের ওপর থেকে ১ শতাংশ দ্বৈত উৎসে কর প্রত্যাহার করা।

৪. কাঁচামালে শুল্ক প্রত্যাহার: ম্যান-মেড ফাইবার ভিত্তিক পোশাকের সম্ভাবনা বিবেচনায় পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার (পিএসএফ), পিভিসি রেজিন ও পিইটি রেজিনের ওপর প্রস্তাবিত আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি।

বিজিএমইএ আশা করে, পোশাক খাতের সংকট উত্তরণে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী এই যৌক্তিক দাবিগুলো বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করবেন।


   আরও সংবাদ