ঢাকা, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

মরক্কোকে হারাতে পারল না ব্রাজিল

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ১৪ জুন, ২০২৬ ১০:০০ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৬ বার


মরক্কোকে হারাতে পারল না ব্রাজিল

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ হিসেবে ফুটবলপ্রেমীদের আলাদা নজর ছিল ফিফা র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষ ১০-এ থাকা ব্রাজিল ও মরক্কোর দ্বৈরথের ওপর। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে একদিকে দেখা গেছে মরক্কোর সুসংগঠিত দলগত ফুটবল, অন্যদিকে ব্রাজিলের তারকাদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য।

আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের লড়াই শেষে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হলেও, দুই দলের জন্যই এটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে তাদের আরও অনেক উন্নতি করতে হবে।

 

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের চিরাচরিত স্নায়ুচাপের কারণেই হয়তো ব্রাজিলের শুরুটা ছিল ভীষণ নড়বড়ে।

মধ্যমাঠ ও রক্ষণভাগে একের পর এক ভুল পাস এবং দুর্বল ট্যাকল সেলেসাওদের বিল্ড-আপ ফুটবলকে বাধাগ্রস্ত করছিল। বিশেষ করে লুকাস পাকেতা, কাসেমিরো এবং রাইট-ব্যাকে খেলা ইবানেজের একের পর এক ভুল ব্রাজিলকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়।

প্রীতি ম্যাচগুলোতে রাইট-ব্যাক হিসেবে আলো ছড়ালেও এই ম্যাচের প্রথমার্ধে নিজের চেনা ছন্দে ছিলেন না ইবানেজ। মরক্কোর নুসাইর মাজরাউই ও বিলাল এল খানুসকে অতিরিক্ত জায়গা ছেড়ে দেওয়ার পাশাপাশি আক্রমণে উঠেও সফল হতে পারছিলেন না এই ২৪ নম্বর জার্সিধারী।

 

ব্রাজিলের এই অগোছালো ফুটবল ও ভুলের সুযোগ নিয়েই প্রথম গোলটি আদায় করে নেয় মরক্কো। মাঝমাঠে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজ বল পেয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে আক্রমণ সাজানোর সুযোগ পান। তার সবচেয়ে কাছে থাকা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার কাসেমিরো তাকে রুখতে ব্যর্থ হন। সেই সুযোগে পিএসভির সেন্টার ফরোয়ার্ড ইসমাইল সাইবারি ব্রাজিলের দুই ডিফেন্ডার মার্কিনিয়োস ও গাব্রিয়েল গিমারেসের মাঝের ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন। নিখুঁত পাসে বল পেয়ে গোলরক্ষক আলিসন বেকারের মাথার ওপর দিয়ে দারুণ চিপে বল জালে জড়িয়ে মরক্কোকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন সাইবারি।

গোল হজমের পর ব্রাজিলের ছন্নছাড়া রূপ আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। দলের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের কাছে বলই পৌঁছাচ্ছিল না। প্রধান তারকা ভিনিসিউস জুনিয়র ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিট বলেরই নাগাল পাননি বললেই চলে। তবে এর মাঝেই একবার বাঁ প্রান্ত দিয়ে পিএসজি ফুল-ব্যাক আশরাফ হাকিমিকে গতিতে পরাস্ত করে একটি ক্রস বাড়িয়েছিলেন ভিনি, কিন্তু ইগর থিয়াগো হেড করতে গিয়ে মিস করায় সে যাত্রায় গোল হয়নি।

তবে দমে যাননি ভিনি। নিজের চেনা বাঁ প্রান্তে ৭ নম্বর জার্সির মর্যাদা রেখে দলের ত্রাতা হয়ে ওঠেন তিনি। ব্রুনো গিমারেসের পাস থেকে বল পেয়ে ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে মরক্কোর মার্কার নেইল এল আয়নাউইকে চমৎকার ড্রিবলিংয়ে পরাস্ত করে ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং নিজের ট্রেডমার্ক স্টাইলে এক জোরালো কোনাকুনি শটে গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুকে পরাস্ত করে ব্রাজিলকে ১-১ সমতায় ফেরান।

প্রথমার্ধে যোগ্যতার চেয়ে বেশি সুবিধা নিয়ে বিরতিতে যাওয়া ব্রাজিলের রূপ বদলে যায় দ্বিতীয়ার্ধে। কোচ কার্লো আনচেলত্তি কার্ড দেখা ইবানিয়েন্দ ও চোটপ্রবণ কাসেমিরোকে তুলে মাঠে নামান দানিলো এবং ফাবিনিয়োকে। এই পরিবর্তনের পর ব্রাজিলের খেলায় শৃঙ্খলা ফেরে, পাসের ভুল কমে আসে এবং মরক্কোর আক্রমণের ধারও কমে যায়। মরক্কোর বুয়াদ্দি, ওনাহি ও সাইবারিরা চেষ্টা করলেও ব্রাজিলের জমাট রক্ষণ ভেঙে আর সুযোগ তৈরি করতে পারেননি, ফলে একপর্যায়ে মরক্কোও ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে।

শেষের দিকে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের মাঝে ম্যাচ জেতার আগ্রাসনের অভাব স্পষ্ট ছিল। মাথিউস কুনিয়া এবং লুইজ হেনরিখকে বদলি হিসেবে নামালেও ব্রাজিলের আক্রমণের ধার বাড়েনি। পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থাকা রাফিনিয়া ফরোয়ার্ড হিসেবে চূড়ান্ত ফ্লপ ছিলেন। তার খেলার রিডিং ক্ষমতা ব্যবহার করে মরক্কোর রক্ষণ ভাঙার যে পরিকল্পনা আনচেলত্তি করেছিলেন, তা মরক্কোর খেলোয়াড়দের প্রাথমিক পাসের ওপর কোনো চাপই তৈরি করতে পারেনি। ফলে ১-১ গোলের সমতা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দুদলকে।


   আরও সংবাদ