ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৪ মে, ২০২৬ ১০:২৫ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৮ বার
টানা আট মাস তৈরি পোশাক রপ্তানি কমার পর বেড়েছে দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক। সদ্যবিদায়ী এপ্রিল মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় এসেছে ৩১৪ কোটি ৯ লাখ ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি।
আগের বছরের একই সময়ে এসেছিল ২৩৯ কোটি ৩৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার।
রোববার (৩ মে) এ তথ্য জানিয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ৩৭ শতাংশ শুল্ক ঘোষণার পর থেকে রপ্তানি আয় কিছুটা ঠিক থাকলেও আগস্ট থেকে রপ্তানি আয় কমতে থাকে। ওই মাসে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি কমে সংকোচন হয় ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ (নেগেটিভ গ্রোথ), সেপ্টেম্বরে সংকোচন হয় ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ, অক্টোবর মাসে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ, নভেম্বরে ৫ শতাংশ, ডিসেম্বরে ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ, ফেব্রুয়ারিতে ১৩ দশমিক ২১ শতাংশ এবং মার্চ মাসে ১৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
রপ্তানি বৃদ্ধির কোনো নতুন কারণ ঘটেনি। বরং আগের তিনটি কারণে এপ্রিলে রপ্তানি ‘জাম্প’ করেছে (হঠাৎ বেড়েছে) বলে জানান বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহসভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী।
তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ফেব্রুয়ারি ২৮ দিনের ছিল, পাশাপাশি ছিল নির্বাচন ও ঈদ। এর ফলে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ এই দুই মাসে কারখানায় উৎপাদন কম হয়েছে। এই দুই মাসে কাজ হয়েছে মাত্র ৩৫ দিন। এ ছাড়া গত বছরের এপ্রিলে ঈদ হওয়ার কারণে ওই সময়ে রপ্তানি কম হয়েছিল। সেই কম রপ্তানি আয়ের সঙ্গে তুলনা করার কারণেই এ বছরের এপ্রিলে প্রবৃদ্ধি বেশি দেখাচ্ছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল ৯ মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি আয়ে সংকোচন হয়েছে ২ দশমিক ৮২ শতাংশ। জুলাই-এপ্রিল নয় মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩১ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার বা তিন হাজার ১৭১ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। আর আগের অর্থবছরের একই সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৩২ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ২৬৪ কোটি এক লাখ ২০ হাজার ডলার।
এপ্রিল মাসে রপ্তানি আয় বাড়লেও এই বৃদ্ধিকে ‘বৃদ্ধি’ বলতে চান না বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
তিনি এই বাড়তি রপ্তানিকে আগের মাসে রপ্তানি কম হওয়ার কারণে পেন্ডিং থাকা রপ্তানি হিসেবে দেখছেন।
তিনি বলেন, মার্চ মাসে রপ্তানি কমার প্রধান কারণ ছিল ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমাদের কারখানাগুলোতে প্রায় ১০ দিনের দীর্ঘ ছুটি। এর ফলে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং রপ্তানি কম হয়েছে। এর প্রভাব এপ্রিল মাসে এসে যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ মার্চ মাসে শিপমেন্ট না হওয়া পণ্যগুলো এপ্রিলে শিপমেন্ট হয়েছে।
আমাদের জানা মতে, কোনো কারখানাতেই অতিরিক্ত অর্ডার আসেনি কিংবা হঠাৎ করে নতুন ক্রেতার চাপও বাড়েনি। এ কারণেই এপ্রিলে রপ্তানি বেড়েছে।
আমরা ধারণা করছি, চলতি মাস শেষে আবারও রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে। কারণ এই মাসের শেষ সপ্তাহে আবার একটি বড় ছুটি থাকবে। এর ফলে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে বলে জানান ওই উদ্যোক্তানেতা।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, রপ্তানির প্রকৃত অবস্থা বুঝতে হলে আমাদের জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ মে মাসের ঈদের কারণে জুনেও রপ্তানি সাময়িকভাবে বাড়তে পারে।