ঢাকা, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

কমেছে সবজি-মুরগির দাম

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১ মে, ২০২৬ ১৭:৩৪ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১২ বার


কমেছে সবজি-মুরগির দাম

সরবরাহ বাড়ায় সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজির দাম কমেছে। একইসঙ্গে কমেছে সোনালি কক মুরগির দাম।

এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপণ্যের বাজারে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দিলেও সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমতির পথে।

 

শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর তালতলা ও আগারগাঁও বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

 

এসব বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গ্রীষ্মকালীন সব ধরনের সবজি গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। এসব বাজারে করলা কেজিতে ২০ টাকা কমে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স কেজিতে ২০ টাকা কমে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পটল কেজিতে ২০ টাকা কমে ৬০ টাকা, কচুরমুখী ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বরবটি কেজিতে ২০ টাকা কমে ৮০ টাকা, বেগুন প্রকারান্তরে কেজিতে ২০ টাকা কমে ৬০ থেকে ১২০ টাকা, কচুর লতি কেজিতে ২০ টাকা কমে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা এবং ধুন্দল ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে সাজনা কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

 

জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সবকিছুর দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছিল।

তবে বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমেছে বলে জানালেন তালতলা বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. আমিন।

 

তিনি বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। একইসঙ্গে গ্রীষ্মকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে।

এসব বাজারে কাঁচামরিচ কেজিতে ৪০ টাকা কমে ৬০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং হাইব্রিড ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

বাজারগুলোতে এক হালি লেবু ২০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে দেশি ধনেপাতা ১৮০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, চাল কুমড়া ৬০ টাকা পিস এবং ক্যাপসিকাম ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সোনালি কক মুরগি কেজিতে ৪০ টাকা কমে ৩৬০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড মুরগি ৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার ৩২০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর কলিজা ৮০০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজিপ্রতি ১২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এসব বাজারে সবজি, সিম কেজিতে প্রকারভেদে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো প্রকারভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, দেশি গাজর ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মূলা ৬০ টাকা, ফুলকপি বড় সাইজের প্রতি পিস ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা এবং লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে লাল শাক আঁটি ১০ টাকা, লাউ শাক আঁটি ৩০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৩০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পালং শাক দুই আঁটি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

বাজারগুলোতে আলু ২৫ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এসব বাজারে ইলিশ ৩০০ গ্রাম ওজনের ১ কেজি মাছ ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা এবং ৫০০ গ্রামের ইলিশ ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর মাছ ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকা, টেংরা মাছ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৫০০ টাকা এবং পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে এক ডজন লাল ডিম ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায়, হাঁসের ডিম ২শ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১শ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপণ্যের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। সরকারি তদারকি না বাড়লে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।


   আরও সংবাদ