স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২২ বার
চট্টগ্রাম থেকে: ঢাকায় শেষ ম্যাচ জিতে ওয়ানডে সিরিজে সমতা ফিরিয়ে চট্টগ্রামে পা রেখেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। আগের দিন দুপুরে এসে পুরো দিন বিশ্রামে কাটিয়ে বুধবার সকালে অনুশীলনে নামে দলটি।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি জিততে পারলে শুধু সিরিজই নিশ্চিত হবে না, সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার দৌড়েও কিছুটা এগিয়ে যাবে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। এই লক্ষ্য নিয়েই বৃহস্পতিবার বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে অঘোষিত ফাইনালে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
চট্টগ্রামের ব্যাটিং-বান্ধব উইকেটে বাংলাদেশের জন্য সিরিজ জয়ের মিশন সহজ হবে না। বিশেষ করে টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডারের কয়েকজন ব্যাটার আছেন অফফর্মে।
লিটন দাস, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, সৌম্য সরকারদের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে সিরিজ কার পক্ষে যাবে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নামলেই বাংলাদেশের সামনে যেন এক অদৃশ্য দেয়াল দাঁড়িয়ে যায়।
বছরের পর বছর সেই দেয়াল ভাঙার চেষ্টা চলছে, কিন্তু বাস্তবতা কঠিন। ওয়ানডে ক্রিকেটে এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পথ এখনো কাঁটায় ভরা। সর্বশেষ ২০২৩ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে সিরিজ জিতেছিল নিউজিল্যান্ড। তার আগে বাংলাদেশ মাত্র দুইবারই সিরিজ জিততে পেরেছে—২০১০ ও ২০১৩ সালে।
এবারের নিউজিল্যান্ড দলটি তুলনামূলকভাবে অনভিজ্ঞ। মূল খেলোয়াড়দের অনেকে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ব্যস্ত থাকায় অনিয়মিত ক্রিকেটারদের নিয়েই এসেছে তারা। তবে দুই ম্যাচেই লড়াই করে খেলেছে সফরকারীরা। প্রথম ম্যাচে পরিকল্পিত ক্রিকেটে জিতে যায় নিউজিল্যান্ড, আর দ্বিতীয় ম্যাচে মূলত নাহিদ রানার তোপেই হার মানে তারা।
বৃহস্পতিবার নতুন দিন, নতুন উইকেট মাঠে নামছে দুই দল। চট্টগ্রামের উইকেট সাধারণত ব্যাটিং সহায়ক হলেও সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে, এই ধরনের উইকেটে ব্যাটাররা অনেক সময় ছন্দ হারিয়ে ফেলছেন। সেই শঙ্কা মাথায় রেখে অনুশীলনে ঘাম ঝরিয়েছেন সৌম্য সরকার, লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিমরা। তাদের ব্যাটিংয়ের ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশের জয়-পরাজয়ের হিসাব। একাদশে ব্যাটিং ইউনিটে পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই কম।
বোলিং বিভাগ নিয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তা নেই বাংলাদেশের। সুযোগ পেলেই বোলাররা ভালো পারফর্ম করছেন। তবে শেষ ম্যাচে ফিরতে পারেন মোস্তাফিজুর রহমান। তাসকিন আহমেদকে বিশ্রাম দিয়ে তাকে একাদশে ফেরানোর সম্ভাবনাও আছে। অনুশীলনে তাকে ভালো অবস্থায় দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন বোলিং কোচ শন টেইট।
যে একাদশই হোক কিংবা যে উইকেটই হোক বাংলাদেশের লক্ষ্য একটাই—সিরিজ জয়। ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে শন টেইটও সেটিই স্পষ্ট করেছেন, ‘সিরিজ জয়ের চাপ সবসময়ই থাকে। শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটে এটি স্বাভাবিক। গত ম্যাচ জয়ের পর আমরা ভালো অবস্থায় আছি। আগামীকালের ম্যাচে জয়ের প্রত্যাশা নিয়েই নামব।’
অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধি উইলিয়াম ও’রুরকি জানিয়েছেন, সিরিজ জয়ই তাদের মূল লক্ষ্য, ‘আমরা এখানে এসেছি সিরিজ জিততে। সবাই খুব ভালো প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা নিজেদের সেরাটা দিয়ে জয় তুলে নিতে চাই।’
তরুণ এই নিউজিল্যান্ড দলটি বাংলাদেশে আগে খেলেনি। তাই কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াই তাদের বড় চ্যালেঞ্জ, ‘প্রতিদিনই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং উইকেট বুঝে পরিকল্পনা সাজাবেন।’