ঢাকা, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

নাহিদের ফাইফারে দুইশর আগেই শেষ নিউজিল্যান্ড

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:৪৮ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২২ বার


নাহিদের ফাইফারে দুইশর আগেই শেষ নিউজিল্যান্ড

মিরপুরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বোলিং-ফিল্ডিং দুই বিভাগেই দক্ষতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ। টাইগারদের বোলিং তোপে দুইশ রানের আগেই গুটিয়ে যায় কিউইদের ইনিংস।

 

নতুন বলে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চাপে রাখে বাংলাদেশ। শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদের আঁটসাঁট লাইনে সহজে রান তুলতে পারেননি কিউই ওপেনাররা।

প্রথম ৫ ওভারে আসে মাত্র ১২ রান, যার মধ্যে ৮ রানই আসে তাসকিনের এক ওভারের শেষ দুই বলে। শুরুর এই চাপে ব্যক্তিগত রান তুলতেও ভুগছিলেন ব্যাটাররা।

 

এই চাপে বোলিং পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ, তাতেই আসে সাফল্য। আক্রমণে এসে প্রথম বলেই উইকেট তুলে নেন নাহিদ রানা।

তার ডেলিভারি খেলতে গিয়ে প্যাডে আঘাত পান নিকোলস। জোরালো আবেদনে আম্পায়ার আউট দিলে নিক কেলির সঙ্গে কথা বলে রিভিউ না নিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি।

 

তার বিদায়ে ভাঙে ৪৪ বলে গড়া ২৫ রানের উদ্বোধনী জুটি। নিকোলস ২৬ বলে ২ চারে ১৩ রান করে ফেরেন।

নিজের পরের ওভারের প্রথম বলেই দ্বিতীয় সাফল্য তুলে নেন নাহিদ। তার গতির ডেলিভারি ব্যাট ছুঁয়ে সোজা চলে যায় সৌম্য সরকারের কাছে, সহজ ক্যাচ নিতে ভুল করেন না আফিফ হোসেনের পরিবর্তে একদশে সুযোগ পাওয়া সৌম্য। আউট হওয়ার আগে ৭ বলে ২ রান করেন উইল ইয়াং।

এরপর অধিনায়ক টম ল্যাথাম কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তাকে ফিরিয়ে দেন সৌম্য সরকার। তিনি ৩৫ বলে মাত্র ১৪ রান সংগ্রহ করেন। ফলে চাপে পড়ে যায় নিউজিল্যান্ডের মিডল অর্ডার।

এই অবস্থায় ইনিংস গড়ার দায়িত্ব নেন নিক কেলি ও মুহাম্মদ আব্বাস। দুজন মিলে ধীরগতির উইকেটে ঝুঁকি না নিয়ে ইনিংস গুছানোর চেষ্টা করেছেন। কেলি ফিফটি তুলে নিয়ে দলের হাল ধরেছেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছিলেন আব্বাস। 

দুজন ইনিংস গড়ার চেষ্টা করলেও মাঝের ওভারে ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারিয়ে আবারও চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। এক প্রান্ত ধরে রেখে এগিয়ে নেওয়া ইনিংস শেষ পর্যন্ত বড় করতে পারেননি নিক কেলি।

নাহিদ রানার ঘূর্ণিতে শুরুর ধাক্কা সামলে মুহাম্মদ আব্বাসের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন কেলি। তবে সেই জুটি ভাঙে আবারও নাহিদের বোলিংয়ে। উইকেটের পেছনে অসাধারণ ক্যাচ নেন লিটন দাস। ৩৪ বলে ১৯ রান করা আব্বাসের বিদায়ে ভাঙে ৫৬ রানের জুটি।

এরপরও কেলি লড়াই চালিয়ে যান এবং ফিফটি পেরিয়ে দলকে এগিয়ে নেন। কিন্তু ইনিংস বড় করার পথে এসে থামিয়ে দেন শরিফুল। তার ডেলিভারি মিড উইকেটে ক্যাচ দেন কেলি। ১০২ বলে ১৪টি চারে ৮৩ রানের ইনিংস খেলে ফিরেন তিনি।

কেলির বিদায়ের পর দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন জশ ক্লার্কসন। একটি বাউন্ডারি হাঁকানোর পর পরের বলেই ঝুঁকি নিয়ে শট খেলতে গিয়ে আউট হন তিনি। লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের বলে ক্যাচ দিয়ে ৫ বলে ৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই অলরাউন্ডার।

শেষদিকে নাথান স্মিথ ও উইল ও'রৌরকে স্কোরবোর্ডে রান বাড়ানোর শেষ চেষ্টা করেন। তবে দুইশ'র কাছাকাছি পৌঁছে তাদের থামতে হয় ১৯৮ রানে। তাওহীদ হৃদয় উইলের শট ক্যাচ তুলে উইকেট উপহার দেন তাসকিনকে।

১০ ওভার বল করে ৩২ রান রান দিয়ে নাহিদ একাই তুলে নেন ৫ উইকেট। শরিফুল পান ২টি উইকেট। সৌম্য, তাসকিন ও রিশাদ একটি করে উইকেট তুলে নেন।


   আরও সংবাদ