ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ব্যবসা বিনিয়োগে অশনিসংকেত

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২২ বার


ব্যবসা বিনিয়োগে অশনিসংকেত

জ্বালানি সংকটে দেশের ব্যবসা বিনিয়োগে অশনিসংকেত দেখা দিয়েছে। শিল্পে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

বিশেষ করে রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত ও এর সহযোগী শিল্পগুলো গভীর সংকটে পড়েছে। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ও বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বিদেশি ক্রেতারা আস্থা হারাচ্ছেন।

নানা সমস্যায় তারা এখন বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশের দিকে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য মতে পোশাক রপ্তানি কমেছে টানা ৮ মাস।

আগামী দিনেও কমার আশঙ্কা রয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে ছোট ও মাঝারি কারখানা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উৎপাদন যেখানে ঘণ্টার হিসেবে হয় সেখানে কারখানাগুলোতে প্রতিদিন ৩ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং থাকে। এতে ব্যবসার খরচ বাড়ছে। খরচ বাড়ায় ক্রয়াদেশ কমছে।

 

শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি আমদানিতে যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় সরকার বিশেষ ব্যবস্থা না নিলে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নামতে পারে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলো বিলীন হওয়ার পথে। কর্মসংস্থান ধরে রাখা এবং রপ্তানি সচল রাখতে সরকারকে এখনই জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। বায়ারদের আস্থা ফেরাতে এবং উৎপাদন সচল রাখতে সরকারকে শিল্প এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা দিয়ে একটি দৃঢ় বার্তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প মালিকরা এখন দিশাহারা। ডিজেল না পেয়ে উৎপাদন সচল রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বায়ারদের কাছে একটি ‘ভুল বার্তা’ যাচ্ছে যে, বাংলাদেশে জ্বালানি সংকটের কারণে ভবিষ্যতে সময়মতো শিপমেন্ট দেওয়া সম্ভব হবে না। ফলে তারা আগের মতো অর্ডার দিচ্ছে না।

তিনি সরকারকে আহ্বান জানান, শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা দিয়ে বায়ারদের আশ্বস্ত করার জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা দিতে। অন্যথায় যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতি ভেঙে পড়বে এবং খাদ্য সংকটের পাশাপাশি সামাজিক অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করবে। এর প্রতিবাদে তিনি ব্যক্তিগতভাবে তার ফ্যাক্টরিতে আমেরিকান ক্রেতাদের কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 

বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, সাভার, আশুলিয়া ও কোনাবাড়ী এলাকার শিল্প কারখানাগুলোতে প্রতিদিন ৩ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। আমরা যেখানে ঘণ্টার উৎপাদন করি। সেখানে এক ঘণ্টা দেরি মানে আমাদের বিরাট ক্ষতি। সেই জায়গায় আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফ্যাক্টরি বন্ধ রাখা বড় ক্ষতি। কারখানা সচল রাখতে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকার ফুয়েল কার্ড দিলেও পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। তবে কিছুটা মিলছে। যা চাহিদার তুলনায় কম। অনেক সময় অতিরিক্ত টাকা দিয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে ব্যবসার খরচ বেড়ে যায়। এসব কারণে আমাদের অর্ডার অন্যদেশে চলে যাচ্ছে। 

বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) সভাপতি মো. শাহরিয়ার বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে গত ১৫ দিনে উৎপাদন খরচ ৩৫ শতাংশ বেড়ে গেছে এবং উৎপাদন ক্ষমতা কমেছে ৩০ শতাংশ। তিনি বলেন, এক্সেসরিজ ছাড়া কোনো পণ্য রপ্তানি সম্ভব নয়। এভাবে চলতে থাকলে আগামী কোরবানি ঈদের আগে শ্রমিক অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। এ পরিস্থিতি চললে ছোট-বড় অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং উদ্যোক্তারা ব্যাংক ডিফল্টার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে জ্বালানি শূন্য হবে বাংলাদেশ- এমন আশঙ্কায় ক্রয়াদেশ স্থগিত করেছে অনেক বিদেশি ক্রেতা। বাংলাদেশ ছেড়ে এসব ক্রয়াদেশ ভারতসহ অন্য দেশে চলে যাচ্ছে। এতে দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত এক গভীর সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে। বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং বিদ্যুৎ সংকটসহ অভ্যন্তরীণ কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে জুলাই-আগস্টের সম্ভাব্য অনেক ক্রয়াদেশ থমকে গেছে।


   আরও সংবাদ