ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৩ বার
কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের ১০ বছর পর এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তার নাম হাফিজুর রহমান।
তিনি সেনাবাহিনীর সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার।
গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে কুমিল্লা আদালতে হাজির করা হলে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন সদর আদালত-১ এর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হক।
তনুর ভাই রুবেল হোসেন বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছেন।
তনু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক (ঢাকা) তরিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে গত রাতে (মঙ্গলবার) আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তনুর মা বিভিন্ন সময়ে তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুরোধ করেছিলেন।
সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আমরা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, এখনো ম্যাচিং করা হয়নি।
তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, এতগুলো বছর পর একজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারে আমি সন্তুষ্ট। আমি চাইব তার যেন উপযুক্ত সাজা হয়, ফাঁসি নিশ্চিত হয়। দেশবাসী যেন বলতে পারে তনু হত্যার বিচার হয়েছে।
তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, দেশের মানুষ জানতে চায়, তনু হত্যার বিচার হবে কি না। এবার বলতে পারব, আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। আমি আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আশা করি, বিচার হবে।
এর আগে সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় গত ৬ এপ্রিল সন্দেহভাজন তিনজনের ডিএনএ ম্যাচিং করার নির্দেশ দেন একই আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম কুমিল্লার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হকের আদালতে হাজির হলে তাকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
ওইদিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, আগেই তনুর ব্যবহারের কিছু কাপড় থেকে তিনজন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল করা হয়। এগুলো পরে আর ম্যাচিং করা হয়নি। তাই আজ আদালত বলেছেন, সন্দেহভাজন তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষা করতে। ওই তিনজন এরই মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে গেছেন।
সর্বশেষ গত বছরের ৭ এপ্রিল বিকেলে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মামলার তদন্ত সংস্থা পিবিআইয়ের টিম। মামলার বাদী তনুর বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেনের সঙ্গে তার অফিসে গিয়ে তদন্তকারীরা কথা বলেন। পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম এ মামলার ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়।
পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুরুতে থানা-পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি।
সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি। প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।