ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ জুলাই, ২০২৬ ১৫:১১ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩১ বার
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং আগামী প্রজন্ম এই ইতিহাস থেকে প্রেরণা নেবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
একইসঙ্গে আন্দোলন সফল করতে এবং এর প্রকৃত চিত্র ফুটিয়ে তুলতে গণমাধ্যমকর্মীদের সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: গণমাধ্যম কর্মীদের দায়িত্ব, ত্যাগ ও দুঃসাহসিক স্মৃতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ফরিদা আখতার বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে গণমাধ্যমের ভূমিকা ও তাদের ত্যাগকে তুলে ধরার এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
আমাদের ক্যালেন্ডারে জুলাই মাস যেন শেষই হচ্ছে না। ৩৬ দিনের সেই জুলাইয়ের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আজ আমরা আলোচনা করছি।
তিনি বলেন, আজ এখানে আসার সময় আমাকে একজন জিজ্ঞেস করেছিলেন, নারীদের কোনো বিষয় না থাকা সত্ত্বেও কেন আমি এই অনুষ্ঠানে যাচ্ছি? আমি মনে করি, জুলাই আন্দোলনে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ভূমিকা দেখার ও জানার অধিকার সবার রয়েছে। সাংবাদিকরা যে বীরত্ব ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা সত্যিই অতুলনীয়।
জুলাই আন্দোলনের সময় মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের ছবির অবদানের কথা উল্লেখ করে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, পঙ্গু হাসপাতালে যখন আহতদের দেখতে গিয়েছিলাম, তখন এক পা হারানো তরুণের মনোবল দেখে অবাক হয়েছি। সেই ছেলেটি আমাকে জানায়, ফেসবুকে যখন সে শহীদ আবু সাঈদের বুক পেতে দেওয়ার ছবি দেখেছিল, তখনই সে তার মাকে বলে আন্দোলনের মাঠে নেমে পড়েছিল। এই ছবি ও ভিডিওগুলো তো আমাদের সাংবাদিকরাই সামনে এনেছেন, যা পুরো জাতিকে জাগিয়ে তুলেছিল।
অনুষ্ঠানে কর্পোরেট মিডিয়া ও সাধারণ সাংবাদিকদের পার্থক্য তুলে ধরে ফরিদা আখতার বলেন, সাংবাদিক বনাম কর্পোরেট মিডিয়ার একটি বড় দ্বন্দ্ব আমরা লক্ষ্য করেছি। অনেক কর্পোরেট মিডিয়া বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী ছিল। ফলে অনেক সৎ সাংবাদিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সংবাদ সংগ্রহ করার পরও কর্পোরেট হাউজগুলোর চাপের কারণে তা প্রচার করতে পারেননি। এই বৈরী পরিবেশেও যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সত্য প্রকাশ করেছেন, তারা অনন্য সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফরিদা আখতার বলেন, জুলাই পরবর্তী পরিস্থিতিতে আজ যখন আমরা এই ঐতিহাসিক বিপ্লবের কথা বলতে এসেছি, তখন রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘বিটিভি’ (বাংলাদেশ টেলিভিশন) কোথায়? তারা কেন এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা বা স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেই? জুলাইয়ের আন্দোলনের সত্য ও ত্যাগ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া কি বিটিভির দায়িত্ব নয়?
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন দৈনিক আমার দেশ এর যুগ্ম সম্পাদক এম আবদুল্লাহ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশরাফ কায়সার, দ্য ডিসেন্ট এর সম্পাদক, অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক কদরুদ্দিন শিশির এবং সাংবাদিক, লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাজীব আহাম্মদ প্রমুখ।
সভায় আমন্ত্রিত অতিথিরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকদের ওপর হওয়া নির্মম হামলা, নির্যাতন এবং সত্য প্রকাশে তৎকালীন সরকারের নানামুখী প্রতিবন্ধকতার দুঃসাহসিক স্মৃতিচারণ করেন।