ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৩ বার
সিলেট: সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেও দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সিলেট গ্যাসের উপজাত কনডেনসেট উৎপাদনের মাধ্যমে নতুন আশার সম্ভাবনা তৈরি করছে। তেল-গ্যাসসমৃদ্ধ এ অঞ্চল থেকে উৎপাদন বাড়ায় জ্বালানি খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল) থেকে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১৩০ মিলিয়নের বেশি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। তেমনি গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রাপ্ত কনডেনসেট (প্রাকৃতিক গ্যাসের সঙ্গে থাকা এক ধরনের তরল হাইড্রোকার্বন, যা সাধারণত গ্যাস উত্তোলনের সময় চাপ ও তাপমাত্রা কমলে তরলে পরিণত হয়।
) থেকে দেশের মোট চাহিদার ৫০ শতাংশ পেট্রোল এবং ২৫-৩০ শতাংশ অকটেন উৎপাদিত হয়। অথচ সিলেটে গ্যাসের উপজাত হিসেবে কনডেনসেট উৎপাদন হয়-এ সম্পর্কে স্থানীয়দেরও ধারণা নেই।
সেই কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল, কেরোসিন এবং অল্প পরিমাণ এলপিজি উৎপাদন হয়ে থাকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চারটি সরকারি তেল-গ্যাস উৎপাদনকারী কোম্পানি রয়েছে।
এর মধ্যে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল), সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড (এসজিএফএল) এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) দেশীয় এসব কোম্পানির পাশাপাশি শেভরনও তেল-গ্যাস উত্তোলনে কাজ করছে। এই চারটি কোম্পানি কনডেনসেট উৎপাদনের পর প্রক্রিয়াজাত করে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মাধ্যমে বিপণন করে থাকে। সেই কনডেনসেট থেকে মোট চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশ পেট্রোল এবং ২০-২৫ শতাংশ অকটেন উৎপাদন করা সম্ভব হয়। যে কারণে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে তেলের সংকট দেখা দিলেও রিজার্ভ শূন্যের কোটায় নামার কোনো ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিলেট গ্যাস ফিল্ডের দুটি প্লান্টের ক্ষমতা হচ্ছে প্রতিদিন সাড়ে ৬ হাজার ব্যারেল কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করা। তবে গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় সিলেট গ্যাস ফিল্ডের এ দুটি প্লান্ট থেকে প্রতিদিন ৪ হাজার ৫০০ ব্যারেল কনডেনসেট বরাদ্দ পাচ্ছে। এই কনডেনসেট থেকে ৬০০ ব্যারেল অকটেন, সাড়ে ৩ হাজার ব্যারেল পেট্রোল, ১৫০ ব্যারেল কেরোসিন এবং ডিজেল উৎপাদন হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সরকারও অকটেন উৎপাদন বাড়াতে বলছে। এ কারণে সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের প্লান্ট ৬০০-এর স্থলে ৭০০ ব্যারেল অকটেন উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে। পুরনো কূপগুলোর ওয়ার্কওভার (সংস্কার) কাজের মাধ্যমে সরকার উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া সপ্তাহে প্রতিদিনই পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার ট্যাঙ্ক লরিতে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। লরিগুলো এখান থেকে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তেল নিয়ে ডিলারদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।
সিলেট গ্যাস ফিল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ফারুক হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের প্রোডাকশন তিনটি দেশীয় কোম্পানির মাধ্যমে হয়। আরেকটি বিদেশি কোম্পানি রয়েছে-শেভরন। সবগুলো মিলিয়ে সারা দেশে সাড়ে ৬ হাজার ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদন হয়। এখান থেকে সরকার আমাদের বরাদ্দ দেয় ৪ হাজার ৫০০ ব্যারেল। এটি রশিদপুরে পরিশোধিত করে ৩৪ থেকে ৩৫শ’ ব্যারেল পেট্রোল, ৭/৮ ব্যারেল অকটেন এবং ডিজেল দশমিক ২ থেকে ৩ শতাংশ উৎপাদন হয়। উৎপাদনের পর সেটি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মাধ্যমে বিপণন করা হয়।
তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি সংকট মুহূর্তে সপ্তাহে ৭ দিনই সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। তাই বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে ক্রুড অয়েল বা কনডেনসেট আমদানি বন্ধ হতে পারে, তবে দেশীয় উৎপাদন বন্ধ হবে না।
ব্যবসায়ীরা জানান, ডিজেল এবং জেট ফুয়েল/কেরোসিন এগুলো শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্য থেকেই আমদানি করা হয় না। গত মাসেও মালয়েশিয়া থেকে ৩০ হাজার টন এবং ভারত থেকে ২২ হাজার টন ডিজেল কিনেছে সরকার। এছাড়া সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া থেকেও বাংলাদেশ ডিজেল আমদানি করে। দেশে প্রতিদিন অকটেনের চাহিদা প্রায় ৮ হাজার টন এবং পেট্রোলের চাহিদা প্রায় সাড়ে ১১ হাজার টন। এই দুটি পণ্য দেশে উৎপাদন হয়, আমদানি করার কোনো প্রয়োজন হয় না। এ তথ্য দেশের অধিকাংশ মানুষ জানে না। সংকট নেই-বিষয়টি সরকারের উচিত আরও বেশি করে প্রচার করা।
তবে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের পেছনে নানা কারণ রয়েছে। এক ধরনের মানুষ আছেন, যারা অল্প সময়ে বেশি লাভের আশায় তেল মজুত করছেন। তারা পেট্রোল পাম্পগুলোর সঙ্গে যোগসাজশে বিভিন্ন জায়গায় তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। ফলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে। অতীতে সরকারগুলো সঠিক তথ্য গোপন করায় এই প্রবণতা তৈরি হয়েছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।