ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

উচ্ছেদে ফিরছে সৈকতের সৌন্দর্য

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৬ মার্চ, ২০২৬ ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩০ বার


উচ্ছেদে ফিরছে সৈকতের সৌন্দর্য

কক্সবাজার : সমুদ্রসৈকতে শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে কক্সবাজারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশনার পর রবিবার (১৫ মার্চ) সকাল থেকে সুগন্ধা পয়েন্টে এই উদ্যোগ নেয় প্রশাসন।

উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। প্রস্তুত রাখা হয় বুলডোজার এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

তবে অভিযান শুরুর আগেই প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ব্যবসায়ীরা নিজেরাই তাদের দোকান ও স্থাপনা সরিয়ে নিতে শুরু করেন। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম চলে বিকেল পর্যন্ত ।

প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সুগন্ধা পয়েন্ট ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৬০০ অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মনজু বিন আফনান বলেন, ব্যবসায়ীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের দোকানপাট সরিয়ে নিয়েছেন।

তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রথমে রবিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। পরে দোকান ও মালামালের সংখ্যা বেশি হওয়ায় তারা আরও সময় চান। সে অনুযায়ী অতিরিক্ত সময় দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সবাই দোকান সরিয়ে নেন।

 

তিনি আরও বলেন, সমুদ্রসৈকতের শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পর্যায়ক্রমে সৈকতের অন্যান্য পয়েন্টেও উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

 

এর আগে, গত ৯ মার্চ কক্সবাজার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সমুদ্রসৈকতের দখলমুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন।

এদিকে উচ্ছেদের আগে নিজ দায়িত্বে দোকান সরিয়ে নেওয়া ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মন্ত্রীর নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে তারা স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছেন। তবে জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন অনেকেই।

সুগন্ধা পয়েন্টের ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন বলেন, প্রায় ১৬ বছর ধরে এখানে বার্মিজ পণ্য বিক্রি করে ১১ সদস্যের পরিবার চালিয়েছি।

এখন মন্ত্রীর সহানুভূতিশীল দৃষ্টির অপেক্ষায় আছি।

 

শামুক-ঝিনুক বিক্রেতা রহিম উদ্দিন বলেন, প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে আমরা নিজেরাই দোকান সরিয়েছি। কিন্তু ঈদের ব্যাবসার আশায় ঋণ করে পুঁজি দিয়েছিলাম। হঠাৎ উচ্ছেদের কারণে প্রায় পাঁচ-ছয় লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছি।

বার্মিজ পণ্যের ব্যবসায়ী মুজিব উল্লাহ বলেন, রমজানজুড়ে আমরা ঈদের বিক্রির জন্য দোকানে মালামাল তুলেছিলাম। এখন সেই পণ্য নিয়েই বিপাকে পড়েছি। সামনে কীভাবে চলবো তা বুঝতে পারছি না।

প্রশাসনের এই উদ্যোগে সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি দখলমুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছেন অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।


   আরও সংবাদ