ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ মার্চ, ২০২৬ ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩০ বার
বরিশাল: বরিশালের বাবুগঞ্জে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নয় বছরের একটি শিশুকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী কিশোরের বিরুদ্ধে।
রোববার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নে শিশুর ওপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুর নাম রাইসা।
সে বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের দিনমজুর নজরুল ইসলামের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
মৃত্যুর আগে অগ্নিদগ্ধ রাইসার একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে রাইসাকে বলতে শোনা যায়, আমারে খারাপ জিনিস কইছে, আমি হুনি নাই দেইখা শিফাত আমার গায় আগুন দিছে।
স্থানীয়রা জানান, রাইসার বড় ভাই রয়েছে। তাদের মা অন্যত্র বিয়ে করায় বড় ভাই ঢাকায় ফলের দোকানে কাজ করেন আর তাদের বাবা কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা তসলিম জানান, ঘটনার সময় রাইসার বাবা বাড়িতে ছিলেন না। রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মানুষের ডাকাডাকি এবং রাইসার চিৎকার শুনে ওর ঘরের সামনে ছুটে গিয়ে দেখেন, শিশুটির শরীরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে।
দ্রুত এক বালতি পানি মেরে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। পরে রাইসাকে কোলে নিয়ে পাশে থাকা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আগুন নেভানো হয়।
তসলিম বলেন, রাইসাকে উদ্ধার করে যখন হাসপাতালে নিয়ে যাই তখন প্রতিবেশী জালাল সিকদারকে রাইসা দেখতে পেয়ে কাঁদতে শুরু করে এবং বলতে থাকে জালাল সিকদারের ছেলে শিফাতের জন্য তার শরীরের আগুন লেগেছে। আর ঘটনার পর সিফাতকে ঘটনাস্থলের আশেপাশে দেখা যায়নি। আদৌ কেউ ওর গায়ে আগুন দিয়েছে নাকি আগুন লেগেছে, অথবা নিজেই আগুন দিয়েছে কিনা আমার জানা নেই।
তসলিম আরও জানান, ঘটনার পর রাইসাকে পার্শ্ববর্তী উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখান থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থা খারাপ হওয়ায় সেখানেও তাকে না রেখে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।
ঢাকায় হাসপাতালে পৌঁছাতে রাত হয়ে যায় জানিয়ে তিনি বলেন, ভর্তি করে অপারেশন থিয়েটার পর্যন্ত যেতে দুই ঘণ্টা লাগে। ভর্তির পর চিকিৎসকরা জানান, রাইসার শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে, অবস্থা ভালো না। এরপর অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয় এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসকরা জানান, রাইসা মারা গেছে। বর্তমানে রাইসার লাশ মর্গে রয়েছে।
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. এহতেশামুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন একটি ঘটনার ভিডিও দেখেছি। তবে এমন অভিযোগ নিয়ে কেউ থানায় আসেনি বা কেউ পুলিশকে জানায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।