ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

নতুন প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা প্রয়োজন

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৯ বার


নতুন প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা প্রয়োজন

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, কেউই চিরস্থায়ী নয়। তবে নতুন প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা অপরিহার্য। তারা যেন জানে এই দেশ কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে যুদ্ধ হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ যেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকে।

 

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ একবারেই শেষ হয়ে যায়নি। সামনে আরও লড়াই আসতে পারে। তাই মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি।

 

বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে মেজর জেনারেল (অব.) আজিজুর রহমান বীর উত্তম, ক্যাপ্টেন (অব.) নুরুল হুদা, মেজর (অব.) সৈয়দ মুনিবুর রহমান, মেজর (অব.) কাইয়ুম খান, সাদেক আহমেদ খান, হাবিবুল আলম বীর প্রতীক ও মেজর (অব.) ফজলুর রহমান বীর প্রতীক উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) জামিল ডি আহসান বীর প্রতীক, মেজর (অব.) সৈয়দ মিজানুর রহমান, মেজর (অব.) এ কে এম হাফিজুর রহমান ও মনোয়ারুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নঈম জাহাঙ্গীরসহ সংগঠনটির একাধিক সদস্য বৈঠকে অংশ নেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা চিহ্নিত করা এবং ভুয়াদের শনাক্ত করাই ছিল সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাকে পুঁজি করে অতীতে অনেকে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করেছে। ভবিষ্যতে যেন এমনটি না ঘটে, সে ব্যবস্থাই গড়ে তুলতে হবে।

 

তিনি বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থে একসময় এসব প্রতিষ্ঠানকে খেলার পুতুলে পরিণত করা হয়েছিল। সেগুলোকে আবার কার্যকর ও সম্মানজনক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সাক্ষাতে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ইতিহাস লেখা এবং নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া একটি পবিত্র দায়িত্ব।

সামনে আর নতুন করে মুক্তিযোদ্ধা পাওয়া যাবে না। তাই তাঁদের স্মৃতি সংরক্ষণে এখন থেকেই পরিকল্পিত উদ্যোগ নিতে হবে।

 

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেন, অতীতে মুক্তিযোদ্ধার চেতনার নামে বিভাজন তৈরি করা হয়েছে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা বঞ্চিত হয়েছেন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই জঞ্জাল দূর করে মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে।

বৈঠকে বীর মুক্তিযোদ্ধারা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন, সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও গণভোটের উদ্যোগের জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সুযোগ থাকবে না এবং সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।

গণভোটে ‘না’ জয়ী হলে তা দেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক হবে উল্লেখ করে ব্যক্তিগতভাবে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারে অংশ নেওয়ার কথাও জানান তারা।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সংবিধান সংস্কারের যে সুযোগ গণ-অভ্যুত্থান থেকে এসেছে, তা বাস্তবায়নে গণভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংস্কার না হলে পরিবর্তন সম্ভব নয়, বারবার একই জায়গায় ফিরে যেতে হবে।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নঈম জাহাঙ্গীর বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকার জন্য তারা কৃতজ্ঞ। দীর্ঘ সময় মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে অপ-রাজনীতির কারণে মুক্তিযোদ্ধারা সমাজে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বৈঠকে বীর মুক্তিযোদ্ধারা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে তারা নিজেদের পরিচয় দিতেও সংকোচ বোধ করতেন। মানুষ প্রশ্ন করত তারা আসল নাকি নকল।

ক্যাপ্টেন (অব.) নুরুল হুদা বলেন, বহু বছর পর মানুষ আবার বাকস্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞা পরিবর্তনের যে সুপারিশ তারা করেছিলেন, তা বাস্তবায়ন করায় প্রধান উপদেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

তিনি বলেন, একাত্তরের মতো চব্বিশের তরুণরাও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। তারা মুক্তিযুদ্ধেরই উত্তরসূরি। একাত্তর ও চব্বিশকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।

বৈঠকে তিন সংগঠনের নেতারা তাদের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তারা জানান, মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এখন প্রধান লক্ষ্য। স্মৃতি সংরক্ষণ, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট বাতিল এবং কল্যাণ ট্রাস্টের সম্পদ যাচাইসহ নানা উদ্যোগ চলমান রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে সংগঠনগুলোর সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। এসব সংগঠনকে আর্থিক ও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে হবে। সরকার যেমন কাজ করবে, নাগরিক হিসেবেও সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারে তার সময় সীমিত হলেও নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য কাজ করে যাবেন।


   আরও সংবাদ