ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১৩:০০ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২২ বার
সিলেট: সহিংসতা, কারচুপি, ব্যালট ছিনতাই, কেন্দ্র দখল-নানাবিধ অরাজকতা পরিলক্ষিত হয় ভোটের দিনে। তাই প্রতিটি কেন্দ্রে নেওয়া হয় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কেন্দ্র নিরাপদ হলে তবেই হয় উৎসবের ভোট। ভোটাররাও নিরাপদে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারেন।
কেন্দ্র নিরাপদ না হলে ভোটারদের সরব উপস্থিতি দেখা যায় না। এই নজির দেখা গেছে বিগত দিনে। তাই সর্বাগ্রে ভোটকেন্দ্রগুলোকে নিরাপদ করতে হয় নির্বাচন কমিশনকে।
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য রয়েছে সিলেটের ছয়টি আসনে এক হাজার ১৬টি কেন্দ্র।
এর মধ্যে ২১৭টি কেন্দ্রে কোনো সংস্কার করানো হয়নি। অধিকাংশ কেন্দ্রে নেই কোনো সীমানা প্রাচীর। তাই ভোটকেন্দ্রগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফলে অরাজকতার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
এমন পরিস্থিতি নিয়েই নির্বাচন অনুষ্ঠান আয়োজন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
যদিও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বেই জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের পক্ষ থেকে সংস্কার, মেরামত এবং সীমানা প্রাচীরবিহীন কেন্দ্রগুলোর তালিকা প্রেরণ করা হয়েছিল নির্বাচন কমিশনে।
এমন তথ্য জানিয়েছেন সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচনী কর্মকর্তারা। কিন্তু পর্যাপ্ত সময় পাওয়ার পরও ত্রুটিপূর্ণ এসব ভোটকেন্দ্রের সংস্কারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সংস্কার ও সীমানা প্রাচীরবিহীন এসব কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের দিন অরাজকতা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেগ পেতে হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিলেটের বিভিন্ন উপজেলার কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে বিয়ানীবাজারে দুটি, দক্ষিণ সুরমায় ৪টি, ফেঞ্চুগঞ্জে ১২টি, গোয়াইনঘাটে ৪৬টি, কানাইঘাটে ৫০টি, কোম্পানীগঞ্জে ১টি, সদরে ৪৫টি, জকিগঞ্জে ৯টি, জৈন্তাপুরে ২৪টি এবং বালাগঞ্জ উপজেলায় ২৪টি।
সিলেট জেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনে প্রেরিত পত্রের সূত্রে জানা যায়, এসব কেন্দ্রে বাউন্ডারি নেই, দরজা-জানালা ভাঙা, বৈদ্যুতিক লাইট ও পাখা, ওয়াশরুম নষ্ট, প্রাচীর নেই, বিদ্যালয়ের ফটক নেই, টিনশেডের বেড়াসহ নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছিল কমিশনে। কিন্তু এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এ কারণে ২১৭ কেন্দ্রের ত্রুটি নিয়েই নির্বাচনের দিন ভোট গ্রহণ করতে হবে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কর্মকর্তাদের।
এ বিষয়ে সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল আলম বলেন, এগুলো সময়সাপেক্ষ বিষয়। আমরা কোন কোন কেন্দ্র সংস্কার প্রয়োজন, তার একটি তালিকা নির্বাচন কমিশনে প্রেরণ করেছি। এখন বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
অবশ্য সিলেট জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেছেন, এসব কেন্দ্রগুলো নিরাপত্তাহীন কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ নয়।