ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৩৩ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২ বার
পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে সরকার, বেসরকারি খাত ও স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ খাতের উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগ ছাড়া কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব নয়।
দেশের পর্যটনকে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরতে নতুন, উদ্ভাবনী ও ব্যয় সাশ্রয়ী উদ্যোগ নিয়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আইসিসিবি হলে ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পর্যটনের সম্ভাবনা অনেক বিস্তৃত। সুন্দরবন, কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় ও হ্রদ, সিলেটের চা-বাগান, নদী-হাওরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যটনের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া প্রত্নতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় স্থাপনাও দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
তিনি বলেন, পর্যটনের সুযোগ শুধু কয়েকটি পরিচিত গন্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি এলাকারই নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও গল্প রয়েছে। এসব সম্ভাবনাকে পরিকল্পিত, টেকসই ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন শিল্পে রূপ দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।
মন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন শ্রেণির ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণ নিয়ে একটি ট্যুরিজম মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। একই সঙ্গে কক্সবাজারকে একটি আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, পর্যটনের নতুন নীতিতে বেসরকারি বিনিয়োগ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য উচ্চাভিলাষী হলেও সবাই একসঙ্গে কাজ করলে তা অর্জন করা সম্ভব।
বিমানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহার সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। পর্যটনের উন্নয়ন শুধু প্রশাসনিক অগ্রাধিকার নয়, এটি সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারও। বর্তমানে দেশের জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ২ থেকে ৩ শতাংশ। এ অবদান বাড়িয়ে ৮ থেকে ৯ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন থেকেই কাজ শুরু করতে হবে, আগামীকাল থেকে নয়। দেশের জন্য আমাদের নিজেদেরই কাজ করতে হবে। কেউ আমাদের হয়ে কাজ করবে না।’
মন্ত্রী পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য অংশীজনকে উদ্ভাবনী ও ব্যয় সাশ্রয়ী ধারণা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের পর্যটনকে বিশ্ববাজারে তুলে ধরতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।