ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

নওগাঁর ঐতিহাসিক আদ্যাবাড়ী মন্দির অযত্ন-অবহেলায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:১১ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩ বার


নওগাঁর ঐতিহাসিক আদ্যাবাড়ী মন্দির অযত্ন-অবহেলায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁ। 

নওগাঁর মহাদেবপুরে অযত্ন অবহেলায় ধ্বংস হচ্ছে ঐতিহাসিক আদ্যাবাড়ী মন্দির। মহাদেবপুর উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামে এ ঐতিহাসিক মন্দিরটি অবস্থিত। এ মন্দিরটি প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম। ঐতিহাসিক এ মন্দির দেখতে এক সময় সনাতন ধর্মালম্বীসহ নানা ধর্মের মানুষ এ উপজেলায় আসতো। কিন্তু সেসব এখন কেবলই স্মৃতি। 

নওগাঁ জেলার ঐতিহাসিক মন্দির গুলোর মধ্যে বেশ পুরাতন বেশ কয়েকটি মন্দির হচ্ছে 

ঠাকুর মান্দা মন্দির (শ্রীশ্রী রঘুনাথ জিউ মন্দির): মান্দা উপজেলা।

কালিতলা মন্দির: নওগাঁ সদর।

শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির: নওগাঁ সদর (ছোট যমুনা নদীর নিকট)।

শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালী মন্দির: নওগাঁ সদর।শ্রী শ্রী হরি মন্দির: সুপারিপট্টি, নওগাঁ সদর।রাজ-রাজেশ্বরী দেবী মন্দির (বলিহার জমিদার বাড়ি): নওগাঁ সদর।

চোড়াচন্ডি কালী মন্দির: বদলগাছী উপজেলা।

বদলগাছী কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির: বদলগাছী উপজেলা।

আদ্যাবাড়ি মন্দির: মহাদেবপুর উপজেলা।বোনো দুর্গমাতা মন্দির: রানীনগর উপজেলা। 

আদ্যাবাড়ি মন্দির প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম। ঐতিহাসিক এ মন্দির দেখতে এক সময় সনাতন ধর্মালম্বীসহ নানা ধর্মের মানুষ এ উপজেলায় আসতো। কিন্তু সেসব এখন কেবলই স্মৃতির পাতায়।গাছ আর লতায় জড়িয়ে জির্ণসির্ণর ভগ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আগাছার আড়ালে। দেখলে যেন মনে হবে কোন ভুতের বাড়ী। সরেজমিনে গিয়ে এমন অবস্থায় চোখে পড়ল। 

 

দীর্ঘদিনের অযত্ন অবহেলায় এ মন্দিরটি এখন অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। তবে আগের মতো জাঁকজমক না থাকলেও স্থানীয় সনাতন ধর্মালম্বীরা এখনও এখানে দূর্গাপূজাসহ নানা পূজা পার্বণে ঘটা করেই পূজা করছে। প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিলে এ ঐতিহাসিক মন্দিরকে ঘিরে এখানে গড়ে উঠতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। এ মন্দিরটির নির্মাণ কাল নিয়ে নানা মতভেদ রয়েছে। তবে এর নির্মাণ শৈলী দেখে মনেহয় এটি পাল রাজত্ব কালের কোন এক সময়  পালদের হাতে নির্মিত হয়েছে এই মন্দির । 

ঐতিহাসিক দলিল দস্তাবেজ খুব কম। যা জানা যায়, তার বেশিরভাগই স্থানীয়ভাবে প্রচলিত গালগপ্পো। তবে মন্দিরের নির্মাণশৈলী দেখে মনে হয়, সম্ভবত পাল শাসনামলের কোন এক সময় মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেই হিসাবে মন্দিরের বয়স হাজার বছরের কাছাকাছি। অনেক ঐতিহাসিকও তেমনই মত দিয়েছেন। যত্রতত্র সেই মন্দিরের ভাঙা অংশ এখনো চোখে পড়ে। এই মন্দির কমপ্লেক্সটি অতীতে সুউচ্চ চওড়া সীমানা প্রাচীর দিয়ে সুরক্ষিত ছিল। সীমানা প্রাচীর টিকে না থাকলেও এর অস্তিত্ব এখনো সহজে অনুমান করা যায়। 

 

এলাকাবাসী ও জনমানুষের মুখ থেকে জানতে পারা যায় যে মন্দির টি মোটামুটি 

 ৪ বিঘা জমির উপর নির্মিত। এক সময় মাটি থেকে এ মন্দিরের চুড়ার উচ্চতা ছিল প্রায় ৬৫ ফিট। এ মন্দিরের আদ্যামাতা, অন্নপূর্ণা ও গৌড়ীপট দেবী ছিল। এ ৩টি দেবী মূর্তিই ছিল পাথরের তৈরি। সেসময়  মূল মন্দিরের পার্শ্বে আরও অনেক গুলো অনুষঙ্গ মন্দির নির্মাণ করা হয়েছিল। স্থানীয় প্রবীণ কৈবত্য এর  ভাষ্যমতে এখানে ১০১টি অনুষঙ্গ মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল এবং এটিকে দ্বিতীয় কাশি বানানোর পরিকল্পনা ছিল। বর্তমানে কালের বির্বতনে মূল মন্দিরটি কালের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে থাকলেও অনুষঙ্গ মন্দির গুলি অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে গেছে। সেই সাথে মিশে গেছে তাদের চিহ্ন। 

 

শোনা যায় মন্দিরের জমি গুলোও নামে বে-নামে দখল করে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।প্রবীণদের মতে  কিছুদিন আগেও মন্দিরের চুড়ার উপরে সুবিশাল একটি ত্রিশূল ছিল।  রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এ ত্রিশূলটিও চুরি হয়ে গেছে। স্থানীয় উন্নয়ন ও মানবাধিকার সংস্থা "আদিবাসী উন্নয়ন সংস্হা "থেকে ঐতিহাসিক এ স্থাপনাটি সংস্কার করে রক্ষণাবেক্ষণার দাবী জানান। 

 

তারা আরো দাবী করেন ঐতিহাসিক এ মন্দিরটি এখনও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে আসেনি। তবে যদি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের  পক্ষ থেকে এ ঐতিহাসিক মন্দিরটি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয় তাহলেই কেবল রক্ষা পাবে শত বছরের পুরানো ও ঐতিহাসিক মন্দিরটি।ফেরে পাবে তার হারানো ঐতিহ্য। হয়তো আবারও পুরোহিতের ঘন্টা বাজবে পূজা অর্চনা হবে প্রাণ ফিরে পাবে শত বছরের পুরানো এই মন্দিরটি। 

 


   আরও সংবাদ