ঢাকা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

উপ-শাখায় আমানত বেড়েছে সাড়ে ৫ শতাংশ

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২০ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৬ বার


উপ-শাখায় আমানত বেড়েছে সাড়ে ৫ শতাংশ

দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর উপ-শাখার (সাব-ব্রাঞ্চ) মাধ্যমে সংগৃহীত আমানতের পরিমাণ চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে একই সময়ে ঋণ ও অগ্রিম বিতরণ কমেছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগ প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাস শেষে দেশে মোট উপ-শাখার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৩টিতে, যা মার্চ মাসে ছিল ৪ হাজার ৯৯২টি।

এই তিন মাসে নতুন করে ৩০টি গ্রামীণ ও ১৯টি শহুরে সাব-ব্রাঞ্চ চালু হয়েছে। আবার একই সময়ে বন্ধ বা একীভূত হয়ে গেছে ৮টি শাখা।

 

বর্তমানে দেশের ৫০টি ব্যাংক উপ-শাখার মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তথ্যে দেখা যায়, উপ-শাখার মাধ্যমে সংগৃহীত মোট আমানত ৭৯ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ২৬৩ কোটি টাকায়, যা প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করেছে।

 

তথ্য বলছে, আমানত হিসাবের সংখ্যাও বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। নারীদের ৮৪ লাখ ৭৩ হাজার হিসাব বেড়ে হয়েছে ৮৯ লাখ ৬৯ হাজার, প্রবৃদ্ধির হার ৫.৯ শতাংশ। নারীদের আমানত হিসাবের অংশ ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ হলেও নারীদের নামে থাকা আমানতের পরিমাণগত অংশ কিছুটা কমে ২৬ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ২৫ দশমিক ৯ শতাংশে নেমেছে।

অন্যদিকে উপ-শাখার মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণ ও অগ্রিমের চিত্র ছিল উল্টো। এ খাতে ঋণের পরিমাণ ২২ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৬০২ কোটি টাকায়। অর্থাৎ ৭ দশমিক ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

এই সময়ে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে ঋণ বিতরণ বরং ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। ফলে মোট ঋণে সাব-ব্রাঞ্চের অংশ ১ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশে। ঋণ হিসাবের সংখ্যাও কমে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৫১২ থেকে নেমেছে ২ লাখ ৪০ হাজার ১০-এ, যা ৫ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস।

তবে ইতিবাচক দিক হলো, গ্রামীণ এলাকায় ঋণ বিতরণের অংশ ৩১ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৫.৮ শতাংশ, যা শহরের তুলনায় গ্রামে ঋণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেয়। একইসঙ্গে নারীদের ঋণের অংশও সামান্য বেড়ে ১৪ শতাংশ থেকে হয়েছে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি উপ-শাখা রয়েছে রাজধানী ঢাকায়। ঢাকায় উপ-শাখার সংখ্যা ১ হাজার ৭টি। এরপরে চট্টগ্রামে রয়েছে ৪৭০টি। কুমিল্লায় ২১৮টি, নারায়ণগঞ্জে ১৭০টি ও গাজীপুরে উপ-শাখার সংখ্যা ১৬৮টি।

ব্যাংকভিত্তিক তালিকায় সবচেয়ে বেশি সাব-ব্রাঞ্চ পরিচালনা করছে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকটির সাব-ব্রাঞ্চের সংখ্যা ১ হাজার ২২৪টি। এরপর রয়েছে এনআরবিসি ব্যাংকের। ব্যাংকটির উপ-শাখার সংখ্যা ৬৮৮টি। আর ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসির ৩৫০টি। পূবালী ব্যাংক পিএলসি-এর ২৮১টি এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ২৭১টি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগের ব্যাংকিং পরিসংখ্যান শাখা থেকে প্রস্তুত করা এ প্রতিবেদনে সার্বিকভাবে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে উপ-শাখা মডেলের ভূমিকা উঠে এসেছে। যদিও ঋণ বিতরণে সাম্প্রতিক সংকোচন নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।


   আরও সংবাদ