ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩০ অগাস্ট, ২০২৬ ১০:৩০ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৬ বার
বাংলাদেশকে উৎপাদনমুখী অর্থনীতিতে রূপান্তর করে ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে পরিণত করার পাশাপাশি এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেছেন, সরকারের নেওয়া কোনো লক্ষ্যই অবাস্তব নয়।
শনিবার (২৯ আগস্ট) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি অডিটরিয়ামে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর আওতাধীন পিকেএসএফসহ ২২টি ফাউন্ডেশনের ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও সংস্কার-উন্নয়নের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশলকে তিন ধাপে ভাগ করা হয়েছে।
প্রথম ধাপ পুনরুদ্ধার, দ্বিতীয় ধাপ উত্তরণ এবং তৃতীয় ধাপ সমৃদ্ধির জন্য পুনর্গঠন। এই কৌশলের আওতায় অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০৩০ সালে মোট রাজস্ব ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। ২০৩৫ সালে এই অনুপাত ১৫ শতাংশে নেওয়া হবে।
এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নযোগ্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশকে আমদানিনির্ভর অর্থনীতি থেকে বের করে উৎপাদনমুখী অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে হবে। এ জন্য দেশের শিল্প ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে বাংলাদেশকে একটি ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া পূর্বাভাসের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাসেরও মিল রয়েছে। ফলে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত।
‘নির্ভরতার সংস্কৃতি’ থেকে বের হতে হবে
এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা আগের সরকারের বিভিন্ন অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতে আমদানিনির্ভরতা বাড়ানো, পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নির্ভরতা তৈরির মতো নীতি নেওয়া হয়েছিল। এর ফলে টেকসই উন্নয়নের পরিবর্তে নির্ভরতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, আগের সরকারের সময় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নেওয়া হলেও তারপর দেশে দারিদ্র্য বেড়েছে। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, দারিদ্র্য ৮০ লাখ থেকে এক কোটি পর্যন্ত বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে নির্ভরতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আত্মমর্যাদাশীল ও উৎপাদনক্ষম অর্থনীতি তৈরি করা। এ জন্য সরকার, প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ২২টি ফাউন্ডেশনকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করার মধ্য দিয়ে ‘হোল অব গভর্নমেন্ট’ ও ‘হোল অব সোসাইটি’ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।
জাতীয় আয় নিয়ে ‘ফরেনসিক অডিট’
দেশের ভোগ ও দারিদ্র্যের তথ্য নিয়ে প্রশ্নের জবাবে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জাতীয় আয় ও অর্থনীতির বিভিন্ন পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বিভিন্ন তথ্য বর্তমানে ফরেনসিক অডিট করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, জাতীয় আয়সহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান স্বাধীন উৎসের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। এতে আগের তথ্যের কতটা অসংগতি ছিল, তা সামনে আসবে।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও বলেন, আপনার ভোগ যদি বেড়েই থাকে, তাহলে দারিদ্র্য বাড়ল কেন? অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা বোঝার জন্য পরিসংখ্যানের পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তব চিত্রও বিবেচনায় নিতে হবে।
এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যের অর্থায়ন কোথা থেকে আসবে সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলের মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানো রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্যমাত্রাগুলো পরিষ্কার। ২০৩০ সালে মোট রাজস্ব ও জিডিপির অনুপাত ১০ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালে ১৫ শতাংশ হবে। এটা বাস্তবায়নযোগ্য। আমাদের কোনো লক্ষ্যমাত্রাই বাস্তবায়নযোগ্য নয় এমন নয়।