আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জুলাই, ২০২৬ ১০:০৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৬ বার
যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা বন্ধ রাখায় ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ রেখেছে বলে জানিয়েছে তেহরান। তবে এটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নয়, বরং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অংশ বলে জানিয়েছে ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এর আগে আলোচনায় বিশ্বাসঘাতকতা করলেও বর্তমানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চলছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা ১৩ রাত ধরে চলা মার্কিন বিমান হামলার পর গত শুক্রবার রাতে অভিযান স্থগিত করে পেন্টাগন।
এরপর শনিবার ও রোববার যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা প্রতিবেশী দেশগুলোতে কোনো পাল্টা হামলা চালায়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের এক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের অবস্থান একই-হামলার জবাব হামলা। হামলা বন্ধ হলে ইরানও অভিযান বন্ধ রাখবে।
এ বার্তা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য আরও সময় দিতে সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। আলোচনার সুযোগ তৈরি করতেই এই বিরতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে টানা দুই সপ্তাহের অভিযানে পূর্বনির্ধারিত বেশির ভাগ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু করার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।
অন্যদিকে, ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধের সিদ্ধান্তকে এখনো স্থায়ী নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছে না তেহরান। ওই সূত্রের দাবি, ইরানে আশার চেয়ে সংশয়ই বেশি এবং অনেকেই মনে করছেন, এই বিরতি কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে, প্রকৃত যুদ্ধবিরতি নয়।
এর আগে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে হুমকির জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নিয়মিত হামলার কথা জানায়। পাল্টা জবাবে ইরান উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে অবস্থিত পানি লবণমুক্তকরণ স্থাপনায় হামলা চালায়।
বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। ফলে এই অঞ্চলের উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তবে হামলা আপাতত বন্ধ থাকলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। তেহরানের এক ব্যবসায়ী রয়টার্সকে বলেন, দেশের সবাই অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। যুদ্ধ শেষও হচ্ছে না, আবার পুরোপুরি এগোচ্ছেও না। এই পরিস্থিতি খুবই ক্লান্তিকর।
সূত্র: আলজাজিরা ও রয়টার্স