স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ জুন, ২০২৬ ১৮:৩৬ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২২ বার
দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই পুরুষ ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ’ এবার বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশের মাটিতে। আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত টুর্নামেন্টের আসর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।
আজ ভারতের গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে চলমান নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম সেমিফাইনাল শুরুর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে এই খবর নিশ্চিত করেছেন সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কাটেল।
বাংলাদেশেই যে পরবর্তী সাফ ফুটবল হবে, সেই আভাস আগেই দিয়েছিলেন সাফ সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন।
আজকের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেই অপেক্ষার অবসান হলো।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী টুর্নামেন্টটি চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু সেই সময়ে ভারত আসিয়ান কাপ খেলতে ব্যস্ত থাকবে বলে সূচি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। সংবাদ সম্মেলনে সাফের সাধারণ সম্পাদক জানান, ‘শুধু ভারতের আসিয়ান কাপ খেলার ব্যবস্থাপনাই নয়, সাফের অন্তর্ভুক্ত সাতটি দেশের সঙ্গেই বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
সবার মতামত ও সম্মতির ভিত্তিতেই টুর্নামেন্টের নতুন তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে।’
পুরুষ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচগুলো ঢাকার দুটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। সাফের সাধারণ সম্পাদক নিশ্চিত করেছেন যে, ঢাকার বাইরে কোনো খেলা হবে না। সংস্কারাধীন বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামই হবে মূল ভেন্যু।
আর দ্বিতীয় ভেন্যু হিসেবে দেশের অন্যতম আধুনিক ফুটবল ভেন্যু বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনাকে বেছে নেওয়া হতে পারে।
ঢাকায় আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের জন্য এই দুটি ছাড়া আর কোনো ভেন্যু না থাকায় এবং সাফের আধুনিক শর্ত পূরণের সক্ষমতা থাকায় কিংস অ্যারেনায় ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা প্রবল। তবে দ্বিতীয় ভেন্যু হিসেবে কিংস অ্যারেনার নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি সাফ কর্তৃপক্ষ।
এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে যুক্ত হতে যাচ্ছে এক নতুন আধুনিক মাত্রা। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে রেফারিংয়ের মান বৃদ্ধি এবং আধুনিকায়নের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর প্রযুক্তি ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি এখনো শতভাগ চূড়ান্ত না হলেও পুরুষোত্তম কাটেল বলেন, ভিএআর ফুটবলের অন্যতম সেরা একটি উদ্ভাবন। এবারই প্রথম সাফে এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের চেষ্টা করছি আমরা। আমাদেরও কোথাও না কোথাও থেকে শুরু করতে হবে।
এটি বেশ ব্যয়বহুল উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, সেরা মানের ভিএআর ব্যবহারে ম্যাচ প্রতি প্রায় ২০ হাজার মার্কিন ডলার খরচ হতে পারে এবং এর জন্য স্টেডিয়ামে উচ্চগতির ইন্টারনেট কানেকশন প্রয়োজন। সাফ কর্তৃপক্ষ বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করছে, তারা ভেন্যু পরিদর্শন করে সবুজ সংকেত দিলেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে। সব ঠিক থাকলে আগামী নভেম্বরে ঢাকার মাটিতে প্রযুক্তিগত দিক থেকে সাফের সবচেয়ে আধুনিক আসরটি দেখতে পাবেন ফুটবলপ্রেমীরা।