ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ মে, ২০২৬ ২২:৫৪ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৭ বার
ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর হামলাকে রক্ষীবাহিনীর সঙ্গে তুলনা করেছেন দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তিনি বলেন, আমরা রক্ষীবাহিনীর কথা শুনেছিলাম।
তাদের ইতিহাস আমরা পড়েছি বইয়ে। কিন্তু স্বচক্ষে দেখার সুযোগ সেটা হয় দুইবার।
প্রথমবার দেখেছি গোপালগঞ্জে, দ্বিতীয়বার ঝিনাইদহে। অস্ত্রশস্ত্রসহ একই কায়দায় হামলা করেছে তারা।
পার্থক্য কেবল দলীয় পরিচয়।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ঝিনাইদহে তার ওপর হামলার ঘটনা তুলে ধরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও পুলিশের একটি অংশ যৌথভাবে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। থানায় মামলা করতে গেলে বাধা দেওয়া হয় এবং পরে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়।
পুলিশ নিরপেক্ষ আচরণ করেনি এবং বিরোধীদের দমন করতে ভূমিকা রেখেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দেশের আইনশৃঙ্খলা, সীমান্ত পরিস্থিতি, রাজনৈতিক সহিংসতা, মাদক সমস্যা এবং সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বর্তমানে দেশে আইনের শাসনের পরিবর্তে ‘জঙ্গলের শাসন’ চলছে। সরকার সংস্কার, বিচার ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান থেকে সরে এসেছে। দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ও দমন-পীড়ন বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এনসিপির এই নেতা বলেন, তারা কোনো ধরনের আপস করবেন না। সংস্কার, বিচার, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থান থেকে তারা সরে আসবেন না।
সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
পশ্চিমবঙ্গ ইস্যুতে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম পরিচয়ের কারণে ভোটার তালিকা থেকে মানুষ বাদ দেওয়া এবং বাংলাদেশি পরিচয়ে হয়রানি, তুলে নেওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘন। একইসঙ্গে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ নিয়ে তিনি বলেন, এটি শুধু একটি দেশের বিষয় নয়; বরং দুই দেশের পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত।
সীমান্ত এলাকায় হত্যাকাণ্ড, মাদক পাচার এবং বিএসএফের আচরণ নিয়েও কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা করা হচ্ছে এবং অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। তিনি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবিকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান এবং নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি করেন।