ঢাকা, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম নিচ্ছেন লঞ্চ মালিকরা

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৬ মে, ২০২৬ ২৩:১৫ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৬ বার


নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম নিচ্ছেন লঞ্চ মালিকরা

ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় উন্নত পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম

 

তিনি বলেছেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও ৫ থেকে ৮ শতাংশ কম ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে যাত্রীরা স্বস্তিতে ও নিরাপদে নৌপথে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

শেখ রবিউল আলম বলেন, আজকে আমি যা দেখেছি, তা আপনারাও দেখেছেন। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৫ থেকে ৮ শতাংশ কমে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

 

সবাই সেই ভাড়াতেই যাত্রী পরিবহন করছে। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কোনো ঘটনা নেই।

 

তিনি বলেন, টার্মিনালে যাত্রীরা যেন সহজে নির্ধারিত ঘাট ও লঞ্চের তথ্য জানতে পারেন, সে জন্য নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনা করেই লঞ্চ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। টার্মিনাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়েছে এবং যাত্রী চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে এমন কুলি বা হকারদের দৌরাত্ম্য কমে এসেছে।

 

নৌদুর্ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, সদরঘাটে অতীতে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে লঞ্চে নৌকায় করে যাত্রী ওঠানামার সময়। এ কারণে এবার সরাসরি নৌকা বা স্পিডবোট থেকে লঞ্চে ওঠা বন্ধ করা হয়েছে। টার্মিনালের দুই পাশে আলাদা পল্টুণ নির্মাণ করা হয়েছে এবং সেখানে সংযোগ সিঁড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নৌকা বা স্পিডবোটে আসা যাত্রীরা আগে পল্টুণে নামবেন, এরপর নিরাপদভাবে লঞ্চে উঠবেন।

 

তিনি আরও বলেন, সবকিছু বিবেচনায় আমার কাছে মনে হয়েছে, মানুষ স্বস্তিতে ও নিরাপদে নৌপথে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।

 

মন্ত্রী জানান, টার্মিনালে যাত্রীসেবা নিশ্চিতে মনিটরিং সেল ও কন্ট্রোল রুম কাজ করছে। অসুস্থ ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য হুইলচেয়ার, মালামাল পরিবহনে ট্রলি এবং বিনামূল্যে বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের জন্য বসার জায়গা, নামাজের কক্ষ ও মেডিকেল সেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

 

সেতুমন্ত্রী বলেন, আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে থেকেই যাত্রীদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। সরকারের দায়িত্ব যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক সেবা নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যেই নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

 

লঞ্চ ছাড়তে দেরি হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে লঞ্চ চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া খারাপ হলে সাময়িকভাবে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার চালু করা হয়। আমাদের কাছে সময়ের চেয়ে যাত্রীদের জীবন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আবহাওয়ার কারণে দেরি হলে যাত্রীরা সেটি বুঝবেন বলে আশা করি।

 

মন্ত্রী আরও বলেন, ব্যক্তিগত তাড়নার চেয়ে সামগ্রিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলাকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ ছাড়া সার্বিক শৃঙ্খলা নিশ্চিতে নৌ-পুলিশকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং টার্মিনালের ইজারাদারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


   আরও সংবাদ