ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ মে, ২০২৬ ২০:১২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১২ বার
দেশের ব্যাংকিং খাতে চলমান বিশৃঙ্খলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, দেশের ইসলামী ব্যাংকিং খাত ধ্বংস হলে পুরো ব্যাংকিং খাতই ধ্বংস হবে।
একই সঙ্গে বর্তমান ‘দলীয়’ গভর্নরকে অপসারণ করে দক্ষ ও পেশাদার কাউকে নিয়োগ দেওয়াসহ আর্থিক খাতে সরকারের অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (২৩ মে) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।
দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র প্রচার-সহকারী মুজিবুল আলম পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলো ব্যাংকিং খাত।
কিন্তু ফ্যাসিস্ট আমলে লুটপাট হওয়া ব্যাংক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের দিকে নজর না দিয়ে সরকার নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নে তৎপর রয়েছে। বর্তমানে দেশের অধিকাংশ ব্যাংক কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
কয়েকটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক রেজুলেশন আইনের আওতায় সমন্বিত করার পরও গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। অনেক ব্যাংক লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং চরম তারল্য সংকটে ভুগছে। ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ দিন দিন বেড়ে সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করছে।
গভর্নরের সমালোচনা করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ইসলামী ধারার পাঁচটি ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের যে কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, গভর্নরের অযোগ্যতা ও সরকারের অযাচিত হস্তক্ষেপে তাও মুখ থুবড়ে পড়েছে। আমানতকারীরা সর্বস্ব হারিয়ে হাহাকার করছেন। সরকার এসব সংকট নিরসনের পরিবর্তে কয়েকটি ব্যাংকে নিজেদের লোক বসিয়ে আর্থিক শৃঙ্খলা বিনষ্ট করছে। একটি মব তৈরি করে দলের অনুগত এবং ঋণ পুনঃতফসিলকারী একজন মধ্যম সারির ব্যবসায়ীকে গভর্নর নিযুক্ত করা হয়েছে, যার দলীয় আনুগত্য ছাড়া বিশেষ কোনো যোগ্যতা নেই।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের রেমিট্যান্স আহরণ, আমদানি-রপ্তানি এবং শিল্প-বাণিজ্যে শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক এটি। অথচ এটিকে ঘিরেও বহুমুখী ষড়যন্ত্র চলছে। একটি বেসরকারি ব্যাংকের বৈধ এমডিকে জোরপূর্বক পদচ্যুত করতে বাধ্য করা হচ্ছে। অযোগ্য ব্যক্তিদের পর্ষদে বসিয়ে সফল ব্যাংকটিকে স্থবির করার চেষ্টা চলছে। এতে বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে এবং গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে।
এর মাধ্যমে ৩ কোটি আমানতকারী এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৮০ লাখ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীকে চরম হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ রেমিট্যান্স আহরণকারী এ ব্যাংকটি ঝুঁকিতে পড়লে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে।
বিবৃতিতে বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামী। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অবিলম্বে দলীয় গভর্নরকে অপসারণ করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য একজন পেশাদার ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া, ছুটি শেষে ইসলামী ব্যাংকের এমডিকে ফিরিয়ে এনে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দেওয়া, ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান বোর্ড ভেঙে দিয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে নতুন বোর্ড গঠন করা, আর্থিক খাতে সরকারি হস্তক্ষেপ বন্ধ করা এবং ব্যাংক লুটেরাদের আইনের আওতায় এনে পাচারকৃত সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনা।
মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে যে অভিঘাত সৃষ্টি হবে, তা সামাল দেওয়া সরকারের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। এ ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় ইসলামী ব্যাংক ধ্বংস হলে এবং আর্থিক খাতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে এর দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।