ঢাকা, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

কে হচ্ছেন ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ১ মার্চ, ২০২৬ ১১:০৬ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩১ বার


কে হচ্ছেন ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা?

বহু জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে নিশ্চিত হওয়া গেছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর। গতকাল (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর সারাদিন ধরে খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি অস্বীকার করলেও এবার আর তা ধামাচাপা দিয়ে রাখেনি ইরান সরকার। সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে ৪০ দিনের গণশোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে দেশটিতে।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে এবার ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে হবেন— তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে ইতোমধ্যে। এ আলোচনায় এখন পর্যন্ত উঠে এসেছে ৫ জনের নাম। 

রোববার (১ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে সিএনএন। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হতে পারেন, এমন ৫ জন হলেন—

মোজতাবা খামেনি : ৫৬ বছর বয়স্ক মোজতাবা খামেনি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় পুত্র। ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং আধাসামরিক বাসিজ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী’র ওপর তার দৃঢ় ও গভীর প্রভাব রয়েছে। তবে ইরানের শিয়া শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রক্ষমতায় পিতা-পুত্রের উত্তরাধিকারকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। আরেকটি বাধা হলো— মোজতবা খামেনি খুব উচ্চ পর্যায়ের ইসলামি পণ্ডিত নন এবং এখন পর্যন্ত শাসনব্যবস্থায় তার কোনো আনুষ্ঠানিক ভূমিকা নেই।

আলীরেজা আরাফি : ৬৭ বছর বয়সী আলীরেজা আরাফি ইরানে তেমন পরিচিত ব্যক্তি নন, তবে তিনি খামেনির আস্থাভাজন এবং একজন প্রতিষ্ঠিত ইসলামি পণ্ডিত। আরাফি বর্তমানে ইরানের আলেমদের পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান এবং ক্ষমতাশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য। এই কাউন্সিল ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টের নির্বাচনে প্রার্থীদের বাছাই এবং পার্লামেন্টে পাস হওয়া আইনগুলো যাচাই করে। আরাফি ইরানের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থারও প্রধান। তবে তিনি রাজনৈতিকভাবে হেভিওয়েট নন এবং সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নেই।

মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি : ৬০ বছর বয়সী মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি একজন কট্টরপন্থি ইসলামি আলেম এবং ইরানের কেন্দ্রীয় আলেম পরিষদের সদস্য। তিনি ইরানের রক্ষণশীল আলেম-উলামাদের নেতা। ইরানের ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সমালোচক সংবাদমাধ্যম ইরান ওয়্যারের প্রতিবেদনে অনুসারে, মিরবাঘের তীব্রভাবে পশ্চিমাদের বিরোধী এবং তিনি বিশ্বাস করেন, বিশ্বাসী মুসলিম এবং অবিশ্বাসীদের মধ্যে সংঘাত অনিবার্য। বর্তমানে তিনি ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় শহর কোম এর বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির প্রধান।

হাসান খোমেনি : ৫০ বছর বয়স্ক হাসান খোমেনি ইরানের ইসলামি বিপ্লবের শীর্ষ নেতা এবং দেশটির প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি। তিনি বর্তমানে খোমেনির সমাধিসৌধের প্রধান রক্ষকের দায়িত্বে আছেন। তবে এখন পর্যন্ত তিনি সরকারের প্রশাসন পর্যায়ের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসেননি। ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপরেও তার প্রভাব কম। তবে তিনি তার অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর তুলনায় কম কঠোর মনোভাবের।

হাশেম হোসেইনি বুশেহরি : ষাটোর্ধ্ব হাশেম হোসেইনি বুশেহরি ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ ইসলামি পণ্ডিত এবং উত্তরাধিকার ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত এবং একই সঙ্গে ইরানের আলেম পরিষদের এক নম্বর উপ-চেয়ারম্যান। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কিন্তু সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তার সম্পর্ক তেমন দৃঢ় নয়।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালের দিকে খামেনির প্রাসাদ লক্ষ্য করে যখন হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র, সেই হামলাতেই প্রাণ হারান তিনি। প্রাসাদের কমাউন্ড থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন ইরানি উদ্ধারকারীরা।

স্যাটেলাইটে প্রকাশিত এক ছবিতে দেখা যায়, খামেনির প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। সেটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

খামেনি ছাড়াও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ওই হামলায় তার মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাই নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে রয়টার্স।

 


   আরও সংবাদ