ঢাকা, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

বিশ্বকাপ বয়কটের ইঙ্গিত ইরানের

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ১ মার্চ, ২০২৬ ১৫:৪৪ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩১ বার


 বিশ্বকাপ বয়কটের ইঙ্গিত ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের প্রভাব ক্রীড়াক্ষেত্রে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে এনেছে। মার্কিন হামলার প্রতিবাদে আগামী ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন। একই সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে দেশটির সব ধরনের ঘরোয়া ফুটবল লিগ।

২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা ইরানের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের যাত্রা শুরু হওয়ার কথা, এরপর ২১ জুন বেলজিয়াম এবং ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের মুখোমুখি হওয়ার সূচি রয়েছে। 

 

তবে তেহরানের পাবলিক টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে ফেডারেশন সভাপতি মেহেদি তাজ বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার পর আমাদের পক্ষে বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ক্রীড়া প্রধানরা।'

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি শেষ পর্যন্ত অংশগ্রহণ করে এবং দুই দল গ্রুপ পর্ব পার হতে পারে, তবে যুক্তরাষ্ট্র বনাম ইরান ম্যাচের একটি সম্ভাবনা ছিল, যা এখন অনিশ্চিত।

 

যুদ্ধের ভয়াবহতার কারণে ইরানের ঘরোয়া ফুটবল লিগ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন ইরানি লিগে খেলা বিদেশি ফুটবলাররা। বিশেষ করে স্পেনের তিন তারকা ফুটবলার এখন ইরান ছাড়ার চেষ্টায় আছেন। 

রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক গোলরক্ষক আন্তোনিও আদান ইতিমধ্যেই মাদ্রিদে পৌঁছেছেন।

তবে স্প্যানিশ-মরক্কান ফুটবলার মুনির এবং সাবেক ভায়াদোলিদ তারকা ইভান সানচেজ বর্তমানে সড়কপথে ইরান ত্যাগের চেষ্টা করছেন।

 

ইরানের এই হুমকির পাশাপাশি বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ মেক্সিকোর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও ফিফাকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। বিশ্বকাপের মাত্র তিন মাস বাকি থাকতে মেক্সিকোর গুয়াদালাজারা শহরে মাদক কার্টেল ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে চরম সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। 

ড্রাগ কার্টেল নেতা 'এল মেনচো' সামরিক অভিযানে নিহত হওয়ার পর কার্টেল সদস্যরা রাস্তায় যানবাহন পুড়িয়ে এবং সুপারমার্কেট ভাঙচুর করে তাণ্ডব চালাচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সেখানে গণপরিবহন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

 

একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আর অন্যদিকে মেক্সিকোর গ্যাং ভায়োলেন্স—সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের নিরাপত্তা ও সফল আয়োজন এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে।


   আরও সংবাদ