ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১৪:০৮ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১০ বার
মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনার অন্যতম একটি ধাপ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরের মডার্নাইজেশন প্রকল্পের আওতায় আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল, ইয়ার্ড এবং কার্গো হ্যান্ডলিং সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। আধুনিকায়নের কাজ সঠিক সময়ে সম্পন্ন হলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র পাল্টে যাবে।
শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নয়, সারাদেশের জন্যই অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
তিনি বলেন, প্রকল্পের প্রকৃত সাফল্য কেবল অবকাঠামো নির্মাণের ওপর নির্ভর করে না।
বন্দরসেবার মান কতটা উন্নত হলো, পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় কতটা কমলো, বিনিয়োগ-কর্মসংস্থান কতটা বাড়লো এবং পরিবেশ কতটা সুরক্ষিত থাকল- তার ওপরই যেকোনো প্রকল্পের সত্যিকার সাফল্য নির্ভর করে।
এসময় তিনি পরিবেশবান্ধব বন্দর সেবা, ড্রেজিং পলি ব্যবস্থাপনা, তেল নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দেশের অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রার কথা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে সরকার বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ সম্ভাবনাময় শিল্পখাতে দেশি-বিদেশি নিরাপদ ও লাভজনক বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
দেশে স্বনির্ভরতা অর্জনে আন্তর্জাতিক অংশীজন, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি। বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ ও নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
মোংলা বন্দরকে ‘ফার্স্ট কলিং পোর্ট’ হিসেবে রূপান্তর করা এখন সময়ের দাবি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছে উপযুক্ত বাণিজ্যিক ও পরিচালনগত শর্তে মোংলাকে আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। বন্দরকে কেন্দ্র করে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোরসহ দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ করতে হবে। এজন্য পঞ্চগড় থেকে মোংলা পর্যন্ত চার লেনের সমন্বিত সড়ক যোগাযোগ স্থাপন এবং খানজাহান আলী বিমানবন্দরের উন্নয়ন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
সরবরাহ ব্যবস্থা সহজ করার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দর, মোংলা ইপিজেড, চীনা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং অন্যান্য শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা সুগম করা দরকার। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা এবং সাপ্লাই চেইন কার্যকর রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মোংলা বন্দরকে একটি পরিপূরক বন্দর হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জ্বালানি, সার, খাদ্যশস্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি এবং দেশীয় পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে এই বন্দর জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। আজকের এই উন্নয়ন উদ্যোগ দেশের শিল্প ও বাণিজ্যকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আঞ্চলিক সুষম উন্নয়নে টেকসই আর্থ-সামাজিক মূল্য সংযোজন করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।