ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

পর্যটন মেলা শুরু বৃহস্পতিবার

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৪ বার


পর্যটন মেলা শুরু বৃহস্পতিবার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে পর্যটন খাতের উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব পর্যটন বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) থেকে ঢাকায় শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬। তিন দিনব্যাপী এ মেলায় ২০টিরও বেশি দেশের পর্যটন প্রতিনিধি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, মেলায় ৬০ হাজারেরও বেশি দর্শনার্থীর সমাগম হবে।

 

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) আয়োজনে ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘এআই পাওয়ার ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেসটিনেশন’। টানা ১৩টি সফল আয়োজনের পর এবার বসছে মেলার ১৪তম আসর।

 

মেলা উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন টোয়াবের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হানিফ।

 

আয়োজকরা জানান, আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়িয়ে পর্যটন খাতকে আরও গতিশীল করা, পরিবেশবান্ধব পর্যটন গন্তব্য গড়ে তোলা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের যোগাযোগ বাড়ানোই এবারের মেলার মূল লক্ষ্য।

এবারের মেলায় নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও আজারবাইজানসহ ২০টিরও বেশি দেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সংস্থা অংশ নেবে।

মেলায় ২০০টিরও বেশি বুথ ও স্টল থাকবে। এতে অংশ নেবে ২২০টির বেশি প্রদর্শক প্রতিষ্ঠান (এক্সিবিটর)। পাশাপাশি ২৫০ জনের বেশি সম্ভাব্য ব্যবসায়িক ক্রেতা (কোয়ালিফায়েড বায়ার) এবং ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি ট্রেড ভিজিটরের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করছে আয়োজক সংস্থা। সবমিলিয়ে দর্শনার্থীর সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া চারটি থিমভিত্তিক প্রদর্শনী হলে ২০০টিরও বেশি এয়ারলাইন্স, হোটেল ও ট্যুর অপারেটর অংশ নেবে। ফলে পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরির ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা। এবারের মেলার টাইটেল স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।

সংবাদ সম্মেলনে টোয়াবের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হানিফ বলেন, গত ১৩টি সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় বিটিটিএফ আজ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ পর্যটন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এই মেলা দেশীয় পর্যটনকে বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে বিটুবি নেটওয়ার্কিং ও নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরা এবং দেশি-বিদেশি পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিটিটিএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জেনারেল ম্যানেজার (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, পর্যটন ও এভিয়েশন খাতের উন্নয়নে শুধু পরিকল্পনা প্রণয়ন নয়, সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি।

তিনি বলেন, বেসরকারি খাতের উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত না করে সরকারকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে পর্যটনসংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বিটিটিএফ ২০২৬ আয়োজনে সহযোগিতা করছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ), বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

এবারের মেলায় দর্শনার্থীদের জন্য বিভিন্ন ছাড় ও বিশেষ অফার নিয়ে আসছে এয়ারলাইন্স, হোটেল ও ট্যুর অপারেটরগুলো। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ সব রুটে টিকিটের মূল্যে ১৫ শতাংশ এবং জেদ্দা ছাড়া আন্তর্জাতিক সব রুটে ১২ শতাংশ ছাড় ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া সুন্দরবনের ক্রুজ ও রিসোর্ট, শ্রীমঙ্গল, টাঙ্গুয়ার হাওরসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন প্যাকেজে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক হোটেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আইএইচজি হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টস মেলায় নিবন্ধনকারীদের জন্য ‘ডাইনিং ডিলস’ কর্মসূচির আওতায় বিশ্বব্যাপী প্রায় ৭ হাজার ৫০০ হোটেলে খাবার ও পানীয়তে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া মেলায় প্রবেশের টিকিটের বিপরীতে র‍্যাফল ড্রয়ের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি রুটের বিমান টিকিটসহ বিভিন্ন পুরস্কার জেতার সুযোগ থাকবে। আগামী ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন টোয়াবের সাবেক সভাপতি ও প্রধান সমন্বয়ক মুহাম্মদ রফিউজ্জামান।

আয়োজক টোয়াবের লক্ষ্য, আন্তর্জাতিক পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দেশের পর্যটন খাতের সংযোগ বাড়ানো এবং বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরা। এ মেলার মাধ্যমে দেশীয় পর্যটন শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার হবে বলে আশা করছে সংগঠনটি।


   আরও সংবাদ