ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:০১ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৫ বার
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য সারা দেশে দলীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বর্ণাঢ্য র্যালিসহ নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে আয়োজিত এক যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
ঘোষিত কর্মসূচির বিবরণ দিয়ে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, আগামী ৭ নভেম্বর সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের সব দলীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। ওইদিন বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন নেতাকর্মীরা।
তিনি আরও জানান, দিবসটি উপলক্ষে ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হবে। একইসঙ্গে সারা দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও অনুরূপ র্যালি আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আগামী ৬ নভেম্বর কেন্দ্রীয়ভাবে আলোচনা সভা আয়োজনের একটি সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন

ঘূর্ণিঝড় অর্ণব: মঙ্গলবার রাত থেকে পশ্চিমবঙ্গে দুর্যোগ
এছাড়া বিশেষ পোস্টার প্রকাশের পাশাপাশি ছাত্রদলসহ অন্যান্য অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো চিত্রাঙ্কন প্রদর্শনী ও নানা সামাজিক-রাজনৈতিক কর্মসূচির আয়োজন করবে বলেও জানান রিজভী।
সংবাদ সম্মেলনে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের পটভূমি তুলে ধরে রিজভী বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে দেশ চরম অনিশ্চয়তা, বাকশাল ও আধিপত্যবাদ থেকে রক্ষা পেয়েছিল। ৭ নভেম্বরের হাত ধরেই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং মানুষের কথা বলার অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের সেই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েই চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন রিজভী। তিনি বলেন, পরাজিত ফ্যাসিবাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কিংবা কোনো গুপ্ত সংগঠনের আশ্রয় নিয়ে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার দায় সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল, খায়রুল কবির খোকন, আব্দুস সালাম আজাদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ইমরান সালেহ প্রিন্স, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, প্রচার সম্পাদক ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, জাসাসের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান, যুবদল সভাপতি মোনায়েম মুন্না, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন প্রমুখ।