ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

চীনের শেয়ারবাজারে বড় ধস

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:০২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৪ বার


চীনের শেয়ারবাজারে বড় ধস

চীনের শেয়ারবাজারে হতাশা বাড়ছে। বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির চাপ অব্যাহত থাকায় বাজারে দরপতন থামার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা, করপোরেট মুনাফা হ্রাস এবং তীব্র মূল্য প্রতিযোগিতায় চীনের অর্থনীতি চাপের মুখে রয়েছে। তবে অর্থনীতিকে চাঙা করতে বড় ধরনের নতুন প্রণোদনা দেওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি।

 

সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চীনের শেয়ারবাজারে গত মে মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে বাজারমূল্য কমেছে ৩ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। গত সপ্তাহে এ দরপতন আরও তীব্র হয়।

 

এতে চীনের প্রধান শেয়ারসূচক সিএসআই ৩০০ বিয়ার মার্কেটে প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে, হংকংয়ের প্রযুক্তি খাতের সূচক হ্যাং সেং টেক দুই বছর আগে বেইজিংয়ের বড় প্রবৃদ্ধি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণার পর অর্জিত মুনাফা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।

 

চীনের শেয়ারবাজারে হতাশার অন্যতম কারণ দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তাদের কম ব্যয় এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কম দামে পণ্য বিক্রির প্রতিযোগিতা। এর ফলে ব্যাংক, বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতের আয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জার্মানির বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান বেরেনবার্গের বহুমুখী সম্পদ বিনিয়োগ কৌশল ও গবেষণা বিভাগের প্রধান উলরিখ উরবান বলেন, সবচেয়ে খারাপ সময় পার হয়ে গেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় এখনো আসেনি। উৎপাদন ও রপ্তানিতে চীনের শক্তিশালী অবস্থান থাকলেও তা অভ্যন্তরীণ চাহিদা, পণ্যের দাম নির্ধারণের সক্ষমতা এবং কোম্পানিগুলোর মুনাফায় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না।

তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের শুরুটাও হতাশাজনক হয়েছে। ব্যাটারি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কনটেম্পোরারি অ্যাম্পেরেক্স টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের (সিএটিএল) মুনাফা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। দুর্বল চাহিদা ও তীব্র প্রতিযোগিতাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শেষ থেকে এমএসসিআই চায়না সূচকভুক্ত কোম্পানিগুলোর ২০২৬ সালের মুনাফার পূর্বাভাস ৪ শতাংশের বেশি কমেছে। একই সময়ে ই-কমার্স খাতের মূল্যযুদ্ধের কারণে হংকংয়ের হ্যাং সেং টেক সূচকভুক্ত কোম্পানিগুলোর মুনাফার পূর্বাভাস কমেছে ১৩ শতাংশেরও বেশি।

এদিকে, ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রতিযোগিতার কারণে চায়না মোবাইলের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিট মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ শতাংশ কমেছে। লিথিয়াম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গানফেং লিথিয়াম গ্রুপও দাম কমে যাওয়ায় প্রত্যাশিত ফল অর্জন করতে পারেনি।

আয় কমে যাওয়ায় চীনের বড় ইন্টারনেট কোম্পানিগুলোও চাপের মুখে রয়েছে। এআই অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন তাদের সংকট আরও বাড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কিছু প্রতিষ্ঠান শেয়ার বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করছে। এর মধ্যে আলিবাবা গ্রুপ হোল্ডিংয়ের ১০ বিলিয়ন ডলারের নতুন শেয়ার বিক্রির উদ্যোগও রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের আস্থাও কমছে। চীনের অভ্যন্তরীণ শেয়ারবাজারে লেনদেন গত বছরের জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি নেমেছে। পাশাপাশি ধার করা অর্থে শেয়ার কেনাবেচার জন্য নেওয়া ঋণের পরিমাণও গত এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

দরপতন ঠেকাতে চীনের কর্তৃপক্ষ ‘জাতীয় দল’ নামে পরিচিত রাষ্ট্রীয় তহবিল সক্রিয় করেছে। তবে সাম্প্রতিক দরপতনে কিছু বিনিয়োগকারীর কাছে চীনা শেয়ারের আকর্ষণ বেড়েছে। ব্রিজওয়াটার অ্যাসোসিয়েটসের চীনা শাখা জানিয়েছে, তারা দেশটির শেয়ারবাজার নিয়ে সতর্কভাবে আশাবাদী। তাদের মতে, সাম্প্রতিক পতনের পেছনে তারল্যসংকট কাজ করেছে এবং শেয়ারের মূল্যায়ন তুলনামূলক আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

চীনের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এতে বছরের প্রথম নয় মাসের প্রবৃদ্ধি সরকারের নির্ধারিত বার্ষিক ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রয়েছে।

ফলে বড় ধরনের ঋণ বা প্রণোদনা না বাড়িয়ে সরকার ধাপে ধাপে অর্থনীতিকে সহায়তা করার নীতি অনুসরণ করতে পারে। তবে দুর্বল মুনাফা, ভোক্তাদের কম ব্যয় এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট চীনের শেয়ারবাজারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।


   আরও সংবাদ