ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

দোহায় বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরল ইনভেস্ট বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:০১ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৪ বার


দোহায় বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরল ইনভেস্ট বাংলাদেশ

দোহায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব বিনিয়োগ ফোরাম ২০২৬-এ বাংলাদেশের বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং অবকাঠামো ও উৎপাদন খাতের বিভিন্ন প্রকল্প তুলে ধরেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। এ অধিবেশনে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী এবং বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিসহ প্রায় ১০০ জন অংশ নেন।

 

ফোরামের মূল মঞ্চে ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ: সবার চোখের সামনেই লুকিয়ে থাকা শতকোটি ডলারের সম্ভাবনা’ শীর্ষক অধিবেশনটি সোমবার (২৬ অক্টোবর) দোহার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠিত হয়। ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) আয়োজনে ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এ ফোরামে ইনভেস্ট বাংলাদেশের অংশগ্রহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন ছিল অধিবেশনটি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য নাহিয়ান রহমান রচি উপস্থাপনা দেন।

এতে তিনি বাংলাদেশের তরুণ কর্মশক্তি, প্রতিযোগিতামূলক পরিচালন ব্যয় এবং অভ্যন্তরীণ বাজারের আকার কীভাবে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করছে, তা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সেবা সহজ করা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে চলমান কার্যক্রম সম্পর্কেও জানান তিনি।

 

আরও পড়ুন

কক্সবাজার রুটে বাড়ল ট্রেনের বহর, যুক্ত হলো মহানগর এক্সপ্রেস

কক্সবাজার রুটে বাড়ল ট্রেনের বহর, যুক্ত হলো মহানগর এক্সপ্রেস

 

উপস্থাপনায় সরকারি জমিতে বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) অবকাঠামো, প্রস্তাবিত চট্টগ্রাম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল, বন্দর স্থাপনা এবং মাতারবাড়ী পরিবেশবান্ধব জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত অবকাঠামোয় বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হয়। এছাড়া ইলেকট্রনিকস, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর বস্ত্র এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন খাতের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এসব প্রকল্পে উন্নয়নকারী, পরিচালনাকারী, বিনিয়োগকারী ও অর্থায়নকারীরা কীভাবে যুক্ত হতে পারেন, তা ব্যাখ্যা করা হয়।

নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, আমরা যেসব প্রকল্প তুলে ধরেছি, সেগুলোতে কীভাবে অংশ নেওয়া যায়, তা জানতে চেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। অর্থনৈতিক অঞ্চল, বন্দর ও শুষ্ক জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতকেন্দ্রে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ নিয়েও অংশীদাররা আগ্রহ দেখিয়েছেন। এসব বিনিয়োগ বাংলাদেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্যেও ভূমিকা রাখতে পারে। আগ্রহীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাব। কোন প্রকল্পে কীভাবে যুক্ত হওয়া যায় এবং আমরা কীভাবে সহায়তা করতে পারি, তা নিয়ে কথা হবে।

ফোরাম চলাকালে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। এছাড়া বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে ফোরামের কর্মসূচিতে একটি গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে।

ফোরামের প্রথম দিনে জ্বালানি রূপান্তরের অগ্রাধিকারগুলোকে বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পে রূপ দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রিপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে বিনিয়োগকারী চিহ্নিত করা, জমি প্রস্তুত করা, নীতিগত সমন্বয় এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) প্রকল্পের কাঠামো তৈরির কাজ কীভাবে সমন্বিত প্রতিষ্ঠানের আওতায় আনা হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করেন তিনি।

এসময় অব্যবহৃত সরকারি জমিতে সোনাগাজী সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের উদ্যোগ এবং দেশের অন্যান্য স্থানে একই মডেল প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। ইনভেস্ট বাংলাদেশের পাইপলাইনে বর্তমানে বড় আকারের ১৫টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে। আগামী কয়েক মাসে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এসব প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিনিয়োগবিষয়ক আরেকটি মন্ত্রিপর্যায়ের গোলটেবিল আলোচনায় উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে বিনিয়োগের উন্নয়নমূলক প্রভাবকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

তিনি বাংলাদেশের সফল বিনিয়োগের উদাহরণগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বেশি তুলে ধরতে আঙ্কটাডের প্রতি প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি বিনিয়োগ নিশ্চয়তা এবং রপ্তানি ঋণের প্রচলিত মডেল অনুসরণ করে বিনিয়োগের ঝুঁকি ভাগাভাগি করে নেওয়ার ব্যবস্থা বিবেচনা করারও আহ্বান জানান তিনি।


   আরও সংবাদ