ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

কক্সবাজার রুটে বাড়ল ট্রেনের বহর

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৫৯ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৫ বার


কক্সবাজার রুটে বাড়ল ট্রেনের বহর

ঢাকা থেকে কক্সবাজার রেলপথে যাত্রী পরিবহনের সুযোগ বাড়াতে নতুন করে যুক্ত হয়েছে মহানগর এক্সপ্রেস। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী ট্রেনটির গন্তব্য কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

 

 

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে ট্রেনটি।

এর মধ্য দিয়ে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ল।

একই সঙ্গে নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট ও ফেনীসহ পথের বিভিন্ন এলাকার যাত্রীরা সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। আগে এসব এলাকার যাত্রীদের সরাসরি কক্সবাজারগামী ট্রেনের সুবিধা সীমিত ছিল।

খবর ঢাকা পোস্ট ও বাংলাদেশ রেলওয়ে-সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

 

ট্রেনটির প্রথম যাত্রা উপলক্ষে কমলাপুর স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।

এ সময় রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

 

বাংলাদেশ রেলওয়ের সূচি অনুযায়ী, মহানগর এক্সপ্রেস প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। ট্রেনটি রাত ২টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে যাত্রাবিরতির পর রাত ৩টায় আবার যাত্রা শুরু করে পরদিন সকাল ৬টার দিকে কক্সবাজারে পৌঁছানোর কথা।

ফেরার পথে ট্রেনটি কক্সবাজার থেকে সকাল ৯টায় ঢাকার উদ্দেশে ছাড়বে। চট্টগ্রামে যাত্রাবিরতির পর ঢাকায় পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা। সপ্তাহের রোববার ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে। অর্থাৎ সপ্তাহের বাকি ছয় দিন এই সেবা চালু থাকবে।

ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে মহানগর এক্সপ্রেস বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, ফেনী ও চট্টগ্রাম স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে। ফেরার পথেও এসব স্টেশনে থামার কথা রয়েছে।

তবে নতুন সূচিতে সীতাকুণ্ডের কুমিরা স্টেশনে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি রাখা হয়নি। ফলে কুমিরা স্টেশনের যাত্রীদের অন্য ট্রেন বা বিকল্প পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হবে।

রেলওয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মহানগর এক্সপ্রেসের ভাড়া আসনশ্রেণিভেদে ৬৮৫ টাকা থেকে ১ হাজার ৫৭০ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ভাড়া ২৪০ টাকা থেকে ৫৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ট্রেনটিতে শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা, এসি সিট ও এসি বার্থ শ্রেণির আসন রয়েছে। যাত্রীরা বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট, ‘রেল সেবা’ অ্যাপ এবং অনুমোদিত স্টেশন কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

মহানগর এক্সপ্রেসে ১৬টি কোচ রাখার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। তবে প্রথম যাত্রা-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে কোচের সংখ্যা ১৮টি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ট্রেনটির চূড়ান্ত কোচ ও আসনসংখ্যা সম্পর্কে বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্বশেষ দাপ্তরিক তথ্য অনুসরণ করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে রেল যোগাযোগে আমূল পরিবর্তন আসবে: মন্ত্রী

দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে রেল যোগাযোগে আমূল পরিবর্তন আসবে: মন্ত্রী

 

এর আগে ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস চলাচল করত। অন্যদিকে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রুটে চলাচল করত সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেস। মহানগর এক্সপ্রেস যুক্ত হওয়ায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম-দুই দিক থেকেই কক্সবাজারগামী ট্রেনের সেবা সম্প্রসারিত হলো।

মহানগর এক্সপ্রেসের রুট সম্প্রসারণে কক্সবাজারের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলার যোগাযোগ সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মধ্যবর্তী জেলাগুলোর যাত্রীরা সরাসরি ট্রেনে পর্যটন নগরীতে যেতে পারবেন। এতে ভ্রমণের সময় ও পথে পরিবহন বদলানোর ঝামেলা কমতে পারে।

যাত্রী চলাচল বাড়লে কক্সবাজারের হোটেল, রেস্তোরাঁ, স্থানীয় পরিবহন ও পর্যটননির্ভর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও উপকৃত হতে পারে। তবে নতুন সেবার সুফল নিশ্চিত করতে টিকিটের পর্যাপ্ততা, সময়মতো ট্রেন চলাচল, স্টেশন ব্যবস্থাপনা এবং যাত্রীসেবার মান বজায় রাখা জরুরি।

মহানগর এক্সপ্রেসের রুট সম্প্রসারণকে কক্সবাজারমুখী রেল যোগাযোগের আরেকটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করা গেলে পর্যটক ও সাধারণ যাত্রী-উভয়ের জন্যই এই ট্রেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


   আরও সংবাদ