আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৪৩ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৪ বার
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে নেব্রাস্কার একটি সমাবেশে যে গাঢ় নীল রঙের স্যুটটি পরেছিলেন, তা নারায়ণগঞ্জের আদমজী এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন বা ইপিজেডে তৈরি। চলতি বছর মার্কিন পোশাক আমদানি কিছুটা কমলেও বাংলাদেশি প্রস্তুতকারকরা ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন– এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
মার্কিন ব্র্যান্ড ‘জোস. এ. ব্যাংক’-এর তৈরি ওই স্যুটটি ইউনিভার্সাল মেনসওয়্যার লিমিটেড প্রস্তুত করেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফ জহির। গত ৫ অক্টোবর গ্র্যান্ড আইল্যান্ডে আয়োজিত এক ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ সমাবেশে ওই স্যুটটি পরেছিলেন ট্রাম্প।
ব্র্যান্ডটির নাম ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশ্ন উঠেছিল, এটি আসলে কোথায় তৈরি হয়েছে। সিএনএন গত বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, স্যুটটি বাংলাদেশ বা চীন– এই দুটির কোনো একটি দেশে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অনন্ত গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক শরিফ জহির এটিকে কোম্পানির দক্ষ শ্রমিক এবং দেশের পোশাক শিল্পের জন্য একটি গৌরবের বিষয় বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি বলেন, একজন ধনী মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সাশ্রয়ী মূল্যের একটি বাংলাদেশি তৈরি স্যুট পরিহিত অবস্থায় দেখা যাওয়া দেশের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং খরচ-সাশ্রয়ী উৎপাদনেরই প্রতিফলন।
ইউনিভার্সাল মেনসওয়্যার আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য স্যুট, ব্লেজার, জ্যাকেট ও ট্রাউজার তৈরি করে থাকে।
প্রতিষ্ঠানটির কারখানা পাঁচ লাখ বর্গফুটের বেশি জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। কোম্পানির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, সেখানে স্বয়ংক্রিয় ফ্যাব্রিক কাটিং, বিশেষায়িত সেলাই ও প্রেসিং মেশিন এবং উৎপাদন ও গুদামজাতকরণ এলাকায় পণ্য পরিবহনের জন্য কনভেয়রভিত্তিক সিস্টেম রয়েছে।
ইউরোপ পরিপূর্ণ, আমেরিকায় নতুন সুযোগ
জহির জানান, বর্তমানে ইউরোপ তাদের সবচেয়ে বড় বাজার হলেও বাংলাদেশি সরবরাহকারীদের জন্য সেটি প্রায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয় বাজার প্রায় পূর্ণ হয়ে আসায় বাংলাদেশি পোশাকের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হবে যুক্তরাষ্ট্র।’ তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ইউনিটের মাধ্যমে ডেনিম, সোয়েটার, নারী ও পুরুষদের পোশাক এবং অ্যাক্টিভওয়্যারও উৎপাদন করে থাকে।
তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের আমলের শুল্ক কাঠামোও নতুন সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। প্রধান প্রতিযোগী ভিয়েতনামের তুলনায় বাংলাদেশের শুল্ক হার মাত্র এক শতাংশের মতো বেশি। তাই কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো দূর করতে পারলে এই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে আমরা এখনো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারব।
শরিফ জহির পলিয়েস্টার ও নাইলনের ওপর আরও বেশি জোর দেওয়ার আহ্বান জানান, যার জন্য ফ্যাব্রিক মিলের প্রয়োজন হয় এবং বড় বিনিয়োগকারীদের এই খাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোনো গভীর সমুদ্রবন্দর না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পৌঁছাতে প্রায় ৩০ দিন সময় লাগে এবং কাস্টম ছাড়পত্র পেতে আরও কিছুটা সময় অতিরিক্ত ব্যয় হয়।
অনন্ত গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উল্লেখ করেন, ‘ভিয়েতনাম এবং মিশরের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীরা যুক্তরাষ্ট্রে অনেক দ্রুত পণ্য পাঠাতে পারে। তাই লিড টাইম কমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
অর্ডারের সময়সীমা সম্পর্কে শরিফ জহির বলেন, শরতের অর্ডারগুলোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং কোম্পানি এখন বসন্ত এবং পরবর্তীতে গ্রীষ্মকালের জন্য অর্ডার নিচ্ছে। তিনি জানান, তাদের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আমদানির তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল অফিস (ওটিইএক্সএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে মার্কিন পোশাক আমদানি হ্রাস পেয়েছে। তবে বাংলাদেশ অন্য বেশ কয়েকটি প্রধান সরবরাহকারীর তুলনায় এই মন্দা ভালোভাবে সামাল দিয়েছে এবং আগস্ট মাসে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে যুক্তরাষ্ট্র মোট ৪৯.০৮ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭.৪২ শতাংশ কম। বর্গমিটার সমতুল্য হিসাবে পরিমাণ ৮.৯৮ শতাংশ কমেছে, অন্যদিকে প্রতি ইউনিটের গড় মূল্য ১.৭১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৪.৪৩ শতাংশ কমে ৫.৩৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, তবে শুধু আগস্ট মাসেই রপ্তানি গত বছরের তুলনায় ১১.১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বাংলাদেশের তুলনামূলক অনুকূল শুল্ক অবস্থান এর কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়তা করছে।
তিনি বলেন, ‘চীনের মতো প্রতিযোগীদের সঙ্গে শুল্কের এই পার্থক্য ক্রেতাদের সোর্সিংয়ের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের প্রতিযোগীদের তুলনায় বাংলাদেশের শুল্ক কাঠামো ভালো। স্বাভাবিকভাবেই ক্রেতারা সেই সুবিধা নিতে চাইবেন।’
সূত্র: ডেইলি সান