ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলায় শিশুসহ নিহত ৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৯ বার


যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলায় শিশুসহ নিহত ৯

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ইরি শহরে বন্দুকধারীর গুলিতে শিশুসহ অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে একটি বাড়ির বাইরে গুলি চালানোর পর ভেতরে ঢুকে হামলা চালান এক ব্যক্তি।

পরে ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন হামলাকারীর মরদেহও উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, নিজের ছোড়া গুলিতেই তার মৃত্যু হয়েছে।

 

এ ঘটনায় জনসাধারণের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা জানতে তদন্ত চলছে।

 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে গুলির শব্দ শুনে একটি বাড়িতে তাদের ডাকা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক বন্দুকধারীকে প্রথমে বাড়ির বাইরে দেখা যায়।

পরে তিনি বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন।

 

 

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ বাড়ির বাইরের রাস্তায় দুই নারীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। গুলিতে তাঁদের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর পুলিশ ও বিশেষায়িত বাহিনীর সদস্যরা বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। এ সময় বাড়ির ভেতর থেকে আরও গুলির শব্দ শোনা যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর পুলিশ বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে আরও সাতজনের মরদেহ পাওয়া যায়। নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। একই সঙ্গে সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ইরি শহরের পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ এ হত্যাকাণ্ডকে তার দেখা সবচেয়ে মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলোর একটি বলে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন, প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং পরিস্থিতি গভীরভাবে উদ্বেগজনক। সন্দেহভাজন ব্যক্তি মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। পুলিশপ্রধান আরও বলেন, তাঁদের হাতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, জনসাধারণের জন্য আর কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি নেই।

নিহত ব্যক্তিদের পরিবার ও ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি সমবেদনা জানিয়ে রিক লোরাহ বলেন, এই ঘটনায় যে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে, তা প্রকাশ করার মতো কোনো শব্দ নেই।

শনিবারও হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছিল কর্তৃপক্ষ। তবে কেন এই হামলা চালানো হয়েছে কিংবা হামলার আগে বাড়িটিতে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ইরি শহর কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে ঘটনাটিকে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোক ও বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের তথ্য অনুযায়ী, ইরির এ হত্যাকাণ্ড চলতি বছরে দেশটিতে অন্তত ১৯তম গণহত্যার ঘটনা। সংস্থাটির সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো ঘটনায় চার বা তার বেশি মানুষ নিহত হলে সেটিকে গণহত্যা হিসেবে গণ্য করা হয়।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের অনেক ঘটনায় হামলাকারী নিজের পরিবারের একাধিক সদস্যকে হত্যা করেন। এসব ঘটনাকে পারিবারিক হত্যাযজ্ঞ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের হিসাবে, জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ৫০০টির বেশি নির্বিচার গুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় চার বা তার বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন—তারা মারা গেছেন কি না, তা বিবেচনায় নেওয়া হয় না।

দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতা বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ। এ ধরনের প্রাণঘাতী হামলার পর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর ফেডারেল আইন প্রণয়নের দাবি জোরালো হয়। তবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে এ বিষয়ে দেশটিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


   আরও সংবাদ